ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ জন্মসূত্রে বরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুন নবীর শৈশব-কৈশোর কেটেছে উত্তরাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তাই ঘুরেফিরে এই চিত্রকরের ক্যানভাসে প্রায়শই উঠে এসেছে নাচোলের কৃষকের শক্ত চোয়াল, কানসাটের চাষাভুষাদের কাস্তে, বরেন্দ্র অঞ্চলের মহিষ ও ছাগল, মহানন্দা নদীর ঘাট কিংবা পদ্মা নদীর পাড়। শুধু কি তাই! তার চিত্রপটে দেখা মেলে বরেন্দ্র ভূমির সাঁওতাল পল্লীর হলদে-তামাটে রঙ।
আর ঘটনাক্রমে রফিকুন নবীর ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা উৎস চাঁপাইনবাবগঞ্জের পটভূমি জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তার অনুজ গুটিকয় খ্যাতিমান চিত্রকর। অতঃপর একদিন তারা চলে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোবরাতলার রফিকুন নবীর একতলার বাড়িটিতে। সেখানে গিয়ে সকলে মিলে ঘুরে বেড়ান রফিকুন নবীর স্মৃতিবিজড়িত পদ্মা-মহানন্দা ও সাঁঁওতাল পাড়াসহ নানা স্থান। এরপর ঢাকায় ফিরে সেই শিল্পিত অভিজ্ঞতার আলোকে প্রত্যেকেই রং-তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তোলেন ক্যানভাস। বরেন্দ্র অঞ্চলের বিবিধ বিষয়ে উঠে আসে তাদের চিত্রপটে। আর সেসব ছবি নিয়ে ধানম-ির গ্যালারি চিত্রকে চলছে যৌথ প্রদর্শনী। শিল্পায়োজনের শিরোনাম ‘পরম্পরার খোঁজে বরেন্দ্র ভ্রমণ’।
রফিকুন নবী ছাড়া প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী অন্য শিল্পীরা হলেন আবুল র্বাক আলভী, মাহফুজুর রহমান, রেজাউন নবী, শামসুদ্দোহা, শেখ আফজাল, নিসার হোসেন, শিশির ভট্টাচার্য, মনিরুজ্জামান ও শামসুল আলম ইন্নান। অংশগ্রহণকারীরা রফিকুন নবীর স্মৃতিবিজড়িত চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চল ভ্রমণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আশ্রয়ে এঁকেছেন প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত চিত্রকর্মসমূহ। অভিজ্ঞতার আলোকে দশ শিল্পীর আঁকা ৪০টি ছবি ঠাঁই পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে।
গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যৌথভাবে এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী, ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী ও তার সহধর্মিণী নাজমা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী আবুল র্বাক আলভী, দুর্জয় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দুর্জয় রহমান জয়, ডি. বি. এল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম. এ রহিম ফিরোজ এবং পশমী সোয়েটার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মশিউল আজম সজল।
এই প্রদর্শনীর শেষদিন আজ শুক্রবার। শিল্পানুরাগীদের জন্য সকাল ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
শিল্পিত উপলব্ধির বয়ান ‘পরম্পরার খোঁজে বরেন্দ্র ভ্রমণ’
Leave a Comment

