ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর হঠাৎ বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণের দাম। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ হাজার টাকার বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে এটি স্বর্ণবাজারের অন্যতম বড় দরপতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটায় স্পট গোল্ডের দাম নেমে আসে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। এর আগের দিন এই দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে উঠে, যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে এই বড় পতন বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, একই সঙ্গে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সম্প্রতি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে উচ্চ দামে লাভ নিশ্চিত হওয়ায় এখন অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকার সম্ভাবনাও সোনার দামে চাপ তৈরি করছে। পাশাপাশি বাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধনের প্রভাবও সাম্প্রতিক দরপতনের অন্যতম কারণ।
বিশ্ববাজারের এই বড় দরপতনের প্রভাব দ্রুতই দেশের বাজারে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভরিপ্রতি সোনার দাম এক লাফে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই শুক্রবার সকালে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা দাম কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ফলে ভালো মানের সোনার দাম নেমে আসে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায়। নতুন দাম শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।
বাজুসের সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী,
২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা,
২১ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা,
১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা
এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

