প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, নতুন নীতিমালার ভিত্তিতেই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডও নতুন নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হবে।
রোববার সকালে বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাসখানেকের মধ্যে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করব। এই নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও মানসম্মত করতে শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নয়, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রশাসনিক কাঠামোকে সময়োপযোগী করার পাশাপাশি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত দৃশ্যমান করার লক্ষ্যেও কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেন, তা বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান কারিগর হবে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার। শিশুদের শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রাথমিক পর্যায়েই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। এতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল এবং উপ-সচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার। প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

