নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের শ্রীরামপুর খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে যেন এক ‘মরণফাঁদ’। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর মাঝামাঝি অংশে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিটের আস্তরণ খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। অনেক রডে মরিচা ধরে ক্ষয়ও দেখা দিয়েছে। সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি স্টিলের প্লেট দিয়ে সাময়িকভাবে ঢেকে রাখা হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ সড়কটি ধামগড় ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করছেন। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পন অনুভূত হয় বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে পুরোনো সেতুর পরিবর্তে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় ডাইভারশন সড়ক নির্মাণের কাজও শুরু হয়। কিন্তু অজানা কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম বলেন, “প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সেতু পার হতে হয়। কখন কী ঘটে, সেই ভয় সব সময় কাজ করে। আমরা দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ চাই।”
আরেক যাত্রী সিরাজ বলেন, “সেতুর মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেটি শুধু স্টিলের প্লেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এটি দেখে সহজেই বোঝা যায় সেতুটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। ডাইভারশন সড়ক নির্মাণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নতুন সেতু নির্মাণে যদি আরও সময় লাগে, তাহলে অন্তত বিদ্যমান সেতুটির জরুরি সংস্কার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

