নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, আগের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় যেভাবে হাসপাতাল পরিচালিত হয়েছে, বর্তমান প্রশাসন সেভাবে চলতে দেবে না। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার হাসপাতালটি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আগের সরকার যেভাবে চালিয়েছে, সেভাবে আর চলবে না। বর্তমান প্রশাসন যে নীতিতে হাসপাতাল পরিচালনা করতে চায়, সবাইকে সেই নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসনের কেউ যদি সরকারের মনোভাব ও জনসেবামুখী কর্মপরিকল্পনা বুঝতে না পারেন কিংবা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তারা দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।”
তিনি বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে যে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখতে পেয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। “মন্ত্রী মহোদয়ের সফরের পর যে পরিস্থিতি ছিল, আজকের পরিদর্শনে আমরা তার কিছুটা উন্নতি দেখতে পেয়েছি। তবে এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আমরা চাই এই উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকুক।”
প্রশাসক আরও বলেন, “আজ যদি ৬০ শতাংশ উন্নতি হয়ে থাকে, তাহলে আগামী সাত দিনের মধ্যে সেটিকে আরও ১০ থেকে ২০ শতাংশ এগিয়ে নিতে হবে। ধাপে ধাপে আমরা ভিক্টোরিয়া হাসপাতালকে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সেবাবান্ধব হাসপাতালে পরিণত করতে চাই।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতালের রান্নাঘরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের গাফিলতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি।
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালটি জেলার অন্যতম প্রাচীন সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এটি শত শত রোগীর চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করছে। সম্প্রতি এখান থেকে ভার্চুয়ালি ১০ জেলার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে, যা হাসপাতালটির সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসক-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালকে আবারও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির চলমান উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জেলার লাখো মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন।

