নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বার্মা স্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিটির সামনে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন রাশেদুজ্জামান (২২), তার শ্যালক গালিব (১৮) এবং শ্যালিকা সুরাইয়া (১২)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে তিনজন ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা গভীর পানিতে তলিয়ে যান। দীর্ঘ সময় তাদের খোঁজ না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে একই স্থান থেকে সুরাইয়ার মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
স্বজনরা জানান, নিহত রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন। জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় এসেছিলেন। অন্যদিকে গালিব ও সুরাইয়ার গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবা আকরাম। বর্তমানে পরিবারটি দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী তিনজনই সাঁতার জানতেন। তারপরও কী কারণে তারা পানিতে ডুবে গেলেন, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে এর আগেও একাধিক ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত মাসেও গোসল করতে নেমে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, লেকের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত ও পানির গভীরতা সম্পর্কে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

