ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরে আবারও সরব হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন। আপিল বিভাগে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১০টি মামলায় জামিন বহাল থাকার পর এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাহলে কি মুক্তি পাচ্ছেন আইভী?
রোববার (১০ মে) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ তার বিরুদ্ধে থাকা ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। আদালতের এই আদেশের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জজুড়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের ৯ মে ভোররাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার পারিবারিক বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেলিনা হায়াৎ আইভী–কে আটক করেন। ওই সময় বাসভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আইভীর আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্তের স্বার্থেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট প্রথম ধাপে পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন দেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ সেই জামিন স্থগিত করেন। পরে গত ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের পাঁচ মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করেন। সবশেষে আপিল বিভাগের আদেশে ১০ মামলাতেই জামিন বহাল থাকায় তার মুক্তির পথে আইনগত জটিলতা অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। আইভীর অনুসারীরা বলছেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এটি তার জন্য বড় স্বস্তির খবর। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভীর মুক্তি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
তবে আইনজীবীদের মতে, ১০ মামলায় জামিন বহাল থাকলেও অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা আইনি জটিলতা না থাকলে তবেই তার মুক্তির বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হবে।

