নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বাড়ির সামনের রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে চা দোকানি মো. নাঈম খান (৬০) হত্যার ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৮ নভেম্বর) শিমরাইল উত্তরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ওই এলাকার মৃত আক্কেল আলীর ছেলে মো. হোসেন (৫০), তাঁর ছেলে ইকবাল হোসেন (২৫) ও স্ত্রী মায়া আক্তার (৪৪)।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বাড়ির সামনের রাস্তার জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী হোসেনের পরিবারের সঙ্গে নাঈম খানের বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নাঈমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিরোধের জেরে হোসেন, ইকবাল ও মায়াসহ তিন থেকে চারজন লাঠিসোঁটা নিয়ে নাঈমের ওপর চড়াও হন। এ সময় তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বেলা ৩টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাঈম খান শিমরাইল উত্তরপাড়া এলাকার মৃত মঈন খানের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন।
নাঈমের মেয়ের জামাতা ইমরান জানান, রাস্তার জায়গা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তাঁর শ্বশুরকে মারধর করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে রোববার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নাঈম হত্যা মামলার তিন আসামিসহ বিভিন্ন মামলার মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাঈম হত্যা মামলার তিন আসামি ছাড়াও দস্যুতার মামলায় দুজন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় একজন এবং ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সাতজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

