LOGo  


২৪ ঘন্টা আপনার পাশে, আপনার সাথে ডেইলি নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকম

dailynarayanganj24@gmail.com

 

 

ব্যাখ্যা নেই অধিনায়কের কাছেও

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম:সিলেটে আনন্দঘণ্টা বাজিয়ে শুরু হওয়া টেস্ট শেষে কানে আসছে বিপদের ঘণ্টা। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকেও হারানোর পর ১১ মাস বিরতিতে টেস্টে ফেরা ক্ষয়িষ্ণু

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাড়ে তিন দিনে হার কোনোভাবেই বাংলাদেশ দলের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহও মনে করেন,

এভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলে যাওয়ার কোনো মানে নেই। সেখানে ছিলেন কালের কণ্ঠ’র সামীউর রহমান

ব্যাটিং ব্যর্থতার ব্যাখ্যা...

এমন ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া আসলে খুবই কঠিন। একটা কথা বলতে পারি, টেস্ট ক্রিকেট খেলতে যে শৃঙ্খলা থাকা উচিত, আমার মনে হয় না আমরা সেই শৃঙ্খলা দেখাতে পেরেছি। কারণ উইকেট বেশ ভালো ছিল, এমনকি আজকেও (চতুর্থ দিনে) উইকেট ভালো ছিল। হয়তো আজকেও দু-একটা বল বাঁক নিয়েছে, এ ছাড়া আমার কাছে ভালোই মনে হয়েছে। আমার মনে হয় শৃঙ্খলার ব্যাপারটা আমাদের আরেকটু ভালো করে দেখতে হবে। নিজেদের ওপর বিশ্বাসটা আরেকটু বাড়াতে হবে। ]

চতুর্থ দিনের পরিকল্পনা...

পরিকল্পনা তো সফল হয়নি। কারণ গতকাল (সোমবার) আমাদের সামনে যখন লক্ষ্য নির্ধারিত হয়, তখন মাঠে আলোচনা করেছিলাম আমরা ইতিবাচক থাকব। ম্যাচ জেতার জন্যই খেলব। কারণ উইকেট ভালোই ছিল। কোনো রকম অজুহাত দেওয়া উচিত হবে না এবং দেওয়া ঠিকও না। আমরাই বাজে ব্যাটিং করেছি।

আউট হওয়ার ধরন...

আমরা অনেকগুলো বলে খুব হেলাফেলা করে আউট হয়েছি, খুব বাজেভাবে আউট হয়েছি। আউটগুলো হয়তো দৃষ্টিকটু। ওই জিনিসগুলো ঠিক না, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে।

টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্ব...

আমরা সত্যিই টেস্ট ক্রিকেটকে অনেক সম্মানের চোখে দেখি। আমরা হয়তো পাঁচ-ছয়টা (আট ইনিংস) ইনিংসে হয়তো রান করতে পারিনি। বোলাররা যথেষ্ট ভালো বোলিং করেছে। প্রতিপক্ষকে অল্প রানে আটকে ফেলেছে। ব্যাটসম্যানরা ভালো করছে না। ওয়ানডে ফরম্যাটে ভালো ছন্দে আছে। কিন্তু ওই শৃঙ্খলাবোধটা হয়তো আমরা টেস্ট ক্রিকেটে নিতে পারছি না। অবশ্যই এটা চিন্তার বিষয়। এভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলার কোনো মানে নেই।

টানা ব্যাটিং ব্যর্থতার হতাশা...

আমার মনে হয় আমাদের স্ট্রোক খেলার অভ্যাসটা বড্ড বেশি। এই জিনিসটা আমরা হয়তো আবেগের মাথায় করছি। এই জিনিসটা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আরেকটু হিসাবি হতে হবে। আমরা কোন বোলারকে কখন কিভাবে খেলতে পারি, এটা দেখতে হবে। সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, আমরা ছোট ছোট জুটিও করতে পারছি না। আমরা ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই ব্যর্থ হচ্ছি। এই বিষয়টা আমরা ঠিক করতে পারলে ঢাকা টেস্টে ভিন্ন বাংলাদেশ দলকে দেখতে পাবেন।

একাদশ নির্বাচন...

আমি শুধু ব্যাটিংটা নিয়ে বলতে পারি। উইকেটের দোষ দিতে পারবেন না। বোলারদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনতে পারবেন না। কারণ তাঁরা ধারাবাহিকভাবে পারফরম করছে। তাইজুলের কথা বলি, সে অনেক ভালো বল করেছে। মিরাজ, রাহি ভালো বল করেছে। শেষ পর্যন্ত এটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব, আমরা কেমন রান করেছি। ব্যাটসম্যানরা যদি ভালো রান না দিতে পারে, তাহলে লাভ নেই কোনো। আমাদের সবার ব্যক্তিগত একটা ইমেজ আছে, একই সঙ্গে এটা বাংলাদেশ দলের ব্যাপার। আমরা বাংলাদেশ দলের জন্য খেলছি। অবশ্যই আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কিছু ফিরিয়ে দিতে হবে।

নেতিবাচক মানসিকতা...

প্রথমত সেরা একাদশ নিয়ে যেটা বলি, ওটা একবারে ঠিক ছিল। কারণ পিচ শুষ্ক ছিল। এ কারণে এখানে তিনটা স্পিনার খেলানো আমার কাছে এবং টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে মনে হয়েছে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত। তবে এভাবে যদি পারফরম করতে থাকি, তাহলে তো অবশ্যই এটা একটা বড় ইস্যু হবেই। খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এটুকুই বলতে পারি, আমরা কোনো কিছু সহজভাবে ছেড়ে দেব না, শক্তভাবে ফিরে আসতে পারি। আমার মনে হয় একটা ইনিংসই যথেষ্ট। পরের টেস্টে ভিন্ন বাংলাদেশকে দেখবেন।

নিজের আউট সম্পর্কে...

আমি মনে করি পরের বার আমিও চিন্তা করব কেন এটা হলো। কারণ তখন মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে আগে ছিল। আমার মনে হয়, আমার বড় একটা ভুল ছিল। তারা একটা পরিকল্পনা বদলেছে, আমি সেই ফাঁদে পড়েছি।

সাকিব-তামিমের অনুপস্থিতি...

সাকিব, তামিম যদি বলেন দলের সেরা দুজন পারফরমার। যে কেউই ওদের দলে চাইবে। কিন্তু ইনজুরি তো কারো হাতে নেই। এর পরও যে দলটা আছে, জিম্বাবুয়েকে হারানোর সামর্থ্য ছিল। জিম্বাবুয়েকেও আমাদের কৃতিত্ব দিতে হবে, তারা ভালো ক্রিকেট খেলেছে।

মুশফিকের পরে নামা...

এটা টিম ম্যানেজমেন্ট এবং মুশফিকের সঙ্গেও কথা বলতে হবে যে ও ব্যক্তিগতভাবে কী চাচ্ছে। কারণ এটা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত যে কে কোথায় ব্যাট করবে। মুশফিককে ছয়ে খেলানোর কারণ ওই ব্যাটিংয়ে যেন গভীরতা থাকে। আর মুশফিকের ৫, ৬ নম্বরে বড় ইনিংস আছে। আজকের (কাল) কথা যদি বলেন, আমি চেয়েছি চারে আসতে। এটা আমার হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত। কারণ ওই সময় সিকান্দার রাজা বল করছিল। তাই চাইছিলাম না দুজন বাঁহাতি ব্যাটিং করুক।

টেস্টের বাংলাদেশ...

আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, আমি শুধু পারফরম্যান্স নিয়েই চিন্তা করছি। টেস্ট ম্যাচ কমবে না বাড়বে এসব নিয়ে আমার কোনো রকম মাথাব্যথা নেই। যদি আমি ভালো করি টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে। যদি খারাপ করতে থাকি, এ রকম বাজে পারফরম করতে থাকি তাহলে টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা অবশ্যই কমে যাবে। এটা আইসিসি, ক্রিকেট বোর্ডের বিষয়।

সংবাদ শিরোনাম