বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানীত সাহসী সন্তানরাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে:সানী

Published on Thursday, 10 May 2018 21:08
Hits: 313

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভদ্রতা, ন্যায় নিষ্ঠা, বিচক্ষন ও বুদ্ধিমত্তা,

সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পুর্ন্য ব্যক্তি হিসেবে সবার কাছে পরিচিত মুখ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাফায়াত আলম সানি। রাজনীতির পাশাপাশি, চাকরী, সামজিক সংগঠন, সহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জড়িত রয়েছেন উদীয়মান এই নেতা।
একান্ত স্বাক্ষাতকালে এই প্রতিবেদকের কাছে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রশ্নের ধারাবাহিকতায়।
এ সময় শেখ সাফায়াত আলম সানি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানীত সাহসী সন্তানরাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে। বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিত্বে সফল এবং বর্তমান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অন্যতম আইডল জননেতা নেতা একেএম শামীম ওসমান। তিনি আমার রাজনৈতিক শিক্ষা গুরু স্বাধীনতার স্বপক্ষের একজন আদর্শের সংগঠক যার নেতৃত্বে আমরা রাজনীতি করে আসছি। তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দক্ষতা ও বিচক্ষনতার সহিত কাজ করে যাচ্ছে।
রাজনীতিতে আসার বিষয় প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জন্ম রাজনৈতিক পরিবারে দাদা বিডি ম্যাম্বার ছিলেন আর বাবা কমিশনার পাশাপাশি যে সংগঠনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই সংগঠনের শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। যার নেত্রীতে নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন সংগ্রাম এর সূচনা হয়েছিলো সেই খান সাহেব ওসমান আলরি সুপ্রত্র সামসুজোহা সাহেব এর সাথে আমার বাবা রাজনীতি করেছেন এবং বঙ্গবন্দুর সানিধ্যে ছিলেন। তৎকালীন সময় আমার বাবা দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই সুবাদে পারিবারিক সুত্রে আমার রাজনীতিত্বে প্রদারপন। এছাড়াও ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে আমাদের ওয়ার্ডে ক্যাম্পের দায়িত্ব সফল ভাবে পালন করতে পেরেছি। তোলারাম কলেজে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলাম তবে কোন পদে দায়িত্ব পালন করিনি। আমার কর্মকান্ড দেখে জননেতা শামীম ওসমান আমাকে জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব প্রদান করেন। আমার নেতার দিকনির্দেশনায় আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আমার সফলতার ৫০% যাবে জননেতা শামীম ওসমান এর উপর আর বাকি ৫০% আমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও কর্মীদের উপর। এর পর যত ব্যর্থতা আছে তা আমার।
রাজনীতি সফলতার বিষয় প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সর্ব প্রমথ সংগঠক হচ্ছে পরিবার সেখানে কেউ যদি নিজের অবস্থান সবার কাছে ভাল ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। সকলের কাছে ভাল গ্রহন যোগ্যতা নিতে পারে আমার বিশ্বাস ঐ ব্যক্তি সর্বস্থরে সফলতা পাবে।
আরেকটি বিষয় হলো, রাজনীতি টাকা কামানোর উৎস বলে আমি বিশ্বাস করি না। প্রকৃত অর্থে রাজনীতি মানেই “রাজার ন্যায় নীতি” দেশ ও মানুষের ভাগ্যের পরির্বতনের জন্য একজন রাজনীতিবিদ যে পরিশ্রম করে উন্নয়নের জন্য আমি সেই রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আর সেই নীতিকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছি বলেই আপনারা আমাকে সফল সংগঠক বলে দাবী করছেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, দল যখন বিরোধী দলে থাকে তখন ত্যাগী নেতাদের মৃল্যায়ন হয় আর যারা হাইব্রিট বা আমাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবের ভাষায় বলতে হয় কাউয়া নেতারা ত্যাগে নয় ভোগে বিশ্বাসী।
ছাত্ররাজনীতিত্বে কলমের পরিবর্তে অশ্র এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে কলমের পরিবর্তে অশ্রের আগম ঘটেছে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের দল ঘটনের পরে। তৎকালীন সময় তিনি শক্তি প্রদর্শন ও লোভ লালসা দিয়ে সাধারণ ছাত্রদের জিম্মি করার জন্য তাদের হাতে অশ্র বিতরন করেন। তৎকালীন সময় স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ও এর বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লাঠি সোটা নিয়ে লড়াই করেছে। আমার নেতা শামীম ওসমান বলেছেন পলিটিকেল ক্যাডার হও আমছ ক্যাডার হইউ না। কারন পলিটিকেল ক্যাডারদের সাহসের মাত্র এতো বেশী থাকে যে তা অপরিসীম আর আমছ ক্যাডারা ১০ জন এসে চিৎকার দিলে সহজেই দুর্বল হয়ে পরে। তাই আমরা সব সময় চেষ্টা করি পলিটিকেল ক্যাডার হওয়ার জন্য যা দেশ ও জনগনের কলায়নে আসবে। এই বিষয় আমরা সব সময় সচেতন আছি এবং ভবিষ্যত্বেও থাকবো।
রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার বিষয় তিনি বলেন, রাজনীতি একটা চলমান পক্রিয়া যেটা ছাত্র সংগঠন দিয়ে শুরু হয়। আমি ৭ বছর যাবৎ জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করে আসছি এখন সময় নতুনদের সুযোগ করে দেয়া। আমি আমার পদ ছাড়তে প্রস্তুত আছি। কারণ অভিজ্ঞতা থেকে যা পেয়েছি তা হলো দেশ ও জনগনের জন্য রাজনীতি করতে কোন পদ পাবির প্রয়োজন হয় না। সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা আমার বিষয় যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমি সেটাই মেনে নিবো। তবে আমার বয়স ও রাজনৈতিক পরিবেশ ইচ্ছা যুবলীগ করা।
এ সময় তিনি আরও বলেন, রাজনীতিত্বে বিদ্ধেশ বা প্রতিযোগীতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু সেটা অবশ্যই জন-স্বার্থে হতে হবে কোন ব্যক্তি স্বার্থে নয়। আর একটা বিষয় আমার ব্যক্তিগত মতামত রাজনীতি করতে এসে যত বাধা বিপত্তি বা সমালোচনা থাকুক না কেন সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এটার বিকল্প কিছু নাই।
নতুন প্রজন্মদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামীতে আমাদের চেয়ে আরও যোগ্যতা সম্পুর্ন্য ব্যক্তি আছে যারা ছাত্ররাজনীতির হালধরতে পারবে। এর জন্য প্রয়োজন শুধু একটু সহযোগীতা তাহলে তারা আমাদের চেয়ে আরও ভাল পারফোমেন্স করতে পারবে।