LOGo  


২৪ ঘন্টা আপনার পাশে, আপনার সাথে ডেইলি নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকম

dailynarayanganj24@gmail.com

 

 

হত্যার কথা স্বীকার করে যা বর্ণনা দিল মোমেন

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আড়াইহাজারে পরকিয়ার জের ধরে শিশু হৃদয় হত্যা

মামলার অন্যতম আসামী রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে গ্রেফতারের পর ৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে ২৮ এপ্রিল শনিবার আদালতে হাজির করলে রাশেদুল ইসলাম মোমেন হত্যার কথা স্বীকার করে হত্যার বর্ণনা দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক আবুল কাশেম আদালতের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ৪দিনের রিমান শেষে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামী নিহত শিশু হৃদয়ের মা শেফালী আক্তারের প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে ২৮ এপ্রিল শনিবার নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে পাঠালে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দেন। ঐ দিন সে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল আড়াইটা পর্যন্ত শিশু হত্যার দায় স্বীকার করে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেন।
সে আদালতে তার বর্ননায় বলেন,দীর্ঘদিন যাবৎ শেফালী আক্তারের সাথে তার পরকিয়া প্রেম ও অনৈতিক সম্পর্ক চলে আসছিল। তাদের এ সম্পর্ক সবাই জেনে গেলে এলাকায় বিচার শালিস হয়। এতে করে শেফালী আক্তারকে তার স্বামী তালাক দেয়। ঘটনার দিন রাতে রাশেদুল ইসলাম মোমেন শেফালী আক্তারের সাথে রাত্রি যাপন করার সময় শেফালী আক্তার তাকে বিয়ে করে ঢাকায় নিয়ে রাখার জন্য বলে। এতে রাশেদুল ইসলাম মোমেন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে জানিয়ে বিয়ে করতে অপারগতা জানালে শেফালী আক্তার তার সন্তানদের হত্যার কথা বলে। তার প্রেক্ষিতেই ঘুমন্ত দুই শিশু পুত্র হৃদয় ও জিহাদ এর সারা শরীরে কেরোসিন ঢেলে মা শেফারী আক্তার আগুন দেয় বলে জানায়। ঘটনার সময় প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন ঘটনাস্থলে দাড়িয়ে ছিলেন এবং হত্যায় সহযোগিতা করেছিলেন বলেও স্বীকার করেন।
এর আগে ১৪ এপ্রিল শিশু হৃদয়ের মা শেফালী আক্তার একই আদালতে তার প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে তার শিশু পুত্র হৃদয় হত্যাকারী হিসেবে বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন ও প্রেমিকা নিহত শিশু হৃদয়ের মা শেফালী আক্তার আদালতে একে অপরের উপর হত্যার দায় চাপিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন।
উল্লেখ্য,নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে নিজ শিশু সন্তান হৃদয় (৯) কে পুড়িয়ে হত্যার পর অভিযুক্ত নিহত শিশু হৃদয়ের মা শেফালী আক্তারকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২২ এপ্রিল রবিবার ভোররাতে আড়াইহাজার থানা পুলিশ,নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের যৌথ প্রচেস্টায় ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নান্দাইল থানার মেরাকোনা গ্রামে অভিযান চালান পুলিশ। সেখানে রাশেদুল ইসলাম মোমেন এর দুঃসম্পর্কের আত্মীয় মোসলেম উদ্দিন ফকিরের ঘর থেকে রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। থানা পুলিশ শিশু হৃদয় হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুইজনকেই গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে তারা দুইজনই হত্যাকান্ডে নিজেদের দায় স্বীকার করল।
প্রসঙ্গত আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শেফালী আক্তারের সাথে তার বৈমাত্রেয় ভাই রাশেদুল ইসলাম মোমেনের দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
প্রতিরাতেই প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন ভাবী শেফালী আক্তারের ঘরেই রাত্রি যাপন করত। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিস বসে বিচার আচার হয়।
তাদের দুজনের কুকর্ম শেফালী আক্তারের ছেলেরা দেখে ফেলতো। এত শেফালী আক্তার ও তার প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন শিশু হৃদয় ও জিহাদদের উপর ক্ষুব্দ ছিল। দুই শিশু ছেলের কারনে তাদের এ অনৈতিক সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এবং শেফালী আক্তারের স্বামী শেফালী আক্তারকে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় দুই সন্তানের উপর প্রচন্ড ক্ষুব্দ ছিল মা শেফালী আক্তার ও প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন। তাই তারা তাদের অনৈতিক কাজের স্বাক্ষী দুই শিশু হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঘটনার দিন ঘুমন্ত শিশুদের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুণ ধরিয়ে দিলে শিশু হৃদয়(৯) আগুনে সম্পূর্ন দেহ পুড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করে এবং শিশু জিহাদ(৭) এর শরীর পুড়ে যাওয়ার সময় চিৎকার দিলে বাড়ির লোকজন তাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে জিহাদ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়।
নিহত শিশু হৃদয় ৩৫ নং বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র এবং আহত ছোট ভাই জিহাদ একই স্কুলের প্রথম শ্রেনীর ছাত্র ছিল।
অভিযুক্ত দুই আসামী আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করায় তাদের সর্ব্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান মামলার বাদী বিল্লাল হোসেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক আবুল কাশেম জানান,হত্যার সাথে এখন পর্যন্ত অন্য কারো সম্পৃক্ত পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি বলেন, মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন অচিরেই দেওয়া সম্ভব হবে।

সংবাদ শিরোনাম