LOGo  


২৪ ঘন্টা আপনার পাশে, আপনার সাথে ডেইলি নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকম

dailynarayanganj24@gmail.com

 

 

প্রধানমন্ত্রীর দু’বারের মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু বিচার হয়নি- রফিউর রাব্বী

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ খুনীরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে

প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের প্রভাবের কারণেই নারায়ণগঞ্জের  মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচার কাজ আটকে আছে।

তদন্ত শেষ হলেও তদন্তকারী সংস্থা র্যাব আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করছে না। বক্তারা ত্বকী হত্যার বিচারের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা।
 
মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারী)  সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের নগরের ৫নং ঘাট এলাকায় ৭০ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজনে ধারাবাহিক মোমশিখা প্রজ্জ¦ালন কর্মসূচীতে বক্তারা এ কথা বলেন।
 
সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক, নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায় প্রমুখ।
 
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ন্যাপ জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আওলাদ হোসেন, সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সমমনা’র সভাপতি দুলাল সাহা, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন প্রমুখ।
 
নিহত ত্বকী বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, রাজা যায়, রাজা আসে ইতিহাসে বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানদের আমরা দেখেছি। তারা মানুষের পক্ষে অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে স্বৈরশাসনের প্রতিষ্ঠা করেছেন। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে টু শব্দ যাতে মানুষ করতে পারে না। তাদের স্বেরশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য তারা ভয়ের একটি সংস্কৃতির রাজনীতি তারা জিইয়ে রাখতে চায়।

এটি আমাদের দেশের এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়েছে। আজকে জানুয়ারী মাসের ৮ তারিখ। ৬৯ এর এই দিনে এই শীতলক্ষ্যা নদীর টার্মিনালে আইয়ুব খান এসেছিলেন।  তাকে সংবর্ধনার জন্য আমাদের নারায়ণগঞ্জের দুই পাশে নারী-শিশুসহ তারা বিভিন্ন পোশাকে সজ্জিত হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন।

সেসময় আইয়ুব খানের যে উন্নয়ন করেছেন সে মাস চলছিল। ওই দিন তাকে বিপুল সংখ্যক জনগণকে সংবর্ধনা দিয়েছিল। তাকে দেখতে গিয়ে টার্মিনালের একটি অংশ ভেঙ্গে গিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের নির্মমতা হচ্ছে এর ঠিক ১০ দিন পরে জানুয়ারীর ২০ তারিখে আসাদের মৃত্যু হয় তখন বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে গণঅভুত্থানের মধ্যে দিয়ে আইয়ুব খানের পতন ঘটে।

যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ তাকে সংবর্ধনা জানাতে গিয়ে ঢল নেমেছিল, দুই সপ্তাহ পরে তাকেই আবার গণঅভুত্থানের পরে বিদায় করে দিয়েছে।

আমাদের ইতিহাস এমনি ইতিহাস, মানুষের ইতিহাস এমনি ইতিহাস। সুতরাং বিজয়ের উচ্ছসিত হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করে মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী এটি কখনো হয় না। মানুষের ভেতরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ কোন না কোনভাবে ঘটবেই। বহি;প্রকাশের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠত হয় এবং হবেই।
 
রফিউর রাব্বি আরো বলেন, ৬ বছর অতিবাহিত হলেও ত্বকী হত্যার বিচার সংঘটিত হয়নি। অথচ হত্যাকান্ডের এক বছর যেতে না যেতেই তদন্তকারী সংস্থা র্যাব হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও উন্মোচন করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, কারা, কোথায়, কেন, কী কারণে ত্বকী হত্যা করেছেন। আমরা এতে আশ্বস্থ হলাম, তদন্ত সংস্থা তারা একটি অপরাধের রহস্য উন্মোচন করেছে, অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে।

কিন্তু অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকার কারণে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা যায়নি। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠ পোষকতায় তারা এই বীরদর্পে ঘুরে বেরিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ত্বকী হত্যার বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দু’বারের তার মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু বিচার করেননি।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনি সংবিধান ছুয়ে শপথ করেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপনি সচেষ্ট হবেন। আমরা দেখতে চাই, আপনি আপনার শপথ কতটা বাস্তবায়ন করেন।
 
নাকি পুরনোই পথেই আপনি বিচরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি জানেন কারা ত্বকীকে হত্যা করেছে। কারা ত্বকীর খুনীকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন তা আপনি জানেন। আপনি হত্যার বিচার করবেন। আপনি অচিরেই ত্বকী হত্যার বিচারের নির্দেশ দিবেন।

যে বাস্তবতা তৈরী হয়েছে সেখানে কোন সংস্থাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সমস্ত নির্দেশ আপনার আদেশ-নির্দেশের উপর চলেছে। আমরা চাই এ অবস্থার অবসান ঘটবে। বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হবে। ত্বকীসহ চঞ্চল, আশিক, ভুলু, মিঠুসহ সকল হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

অপরাধী যেই হোক, তাকে অপরাধী হিসেবে বিচারের আওতায় আনবেন। আমরা আশা করি, ঘাতকদের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে জনগণের স্বার্থ বাস্তবায়ন করার জন্য আপনি নিয়োজিত থাকবেন এই দাবি জানাচ্ছি এবং ইতিহাসের যে অমোচনীয় যে লিখন সেটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। ইতিহাস কাউকে করে নাই এবং করবেও না।
 
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি হালিম আজাদ বলেন, খুনীদের প্রভাবের কারণে ত্বকীর হত্যার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হচ্ছে না। ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে  খুনীরা বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। খুনীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ অভিযোগপত্র প্রস্তুত আদালতে দাখিল করা হবে। কিন্তু তা আজো আদালতে দাখিল করা হয়নি। হত্যাকান্ডের বিচার করতে না দেয়ার সংস্কৃতি থেকেই নারায়ণগঞ্জে সাত খুন হয়েছে। এর পর নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

কিন্তু সাত খুনের বিচারসহ বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডের বিচার হলেও ত্বকী হত্যার বিচার হয়নি। খুনীরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ব্যবহার করে এই হত্যাকান্ড বিচার আটকে রেখেছে। ত্বকী হত্যার বিচারের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান তিনি।
 
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায় বলেন, হত্যার বিচার হবে না। এ কেমন উন্নতি। এ কেমন সভ্য দেশ। রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ করলেই কী দেশের উন্নতি হয়?  রাষ্ট্র আমাদের কথা শুনছেন না। আমরা আমাদের সন্তান ত্বকী হত্যার বিচার পাচ্ছি না।

সন্ত্রাসীদের লালন পালন করে সরকার গঠন করে দেশের উন্নতি হয় না। তিনি প্রধামন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ত্বকী হত্যার বিচার করে প্রমাণ দিতে হবে আপনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
 
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খান  রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল  থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এর পর থেকে ত্বকীয় দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদানন ও বিচারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমশিখা প্রজ্জ্বলন কর্মসূচী পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

সংবাদ শিরোনাম