LOGo  


২৪ ঘন্টা আপনার পাশে, আপনার সাথে ডেইলি নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকম

dailynarayanganj24@gmail.com

 

 

ড. কামাল কোন বিবেচনায় নিবেন?-তৈমূর

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ৬ই ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলের

অজান্তেই স্বৈরাচার পতন দিবস চলে গেলো। “গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক” এ শ্লোগানটি বুকে ধারন করে এরশাদের গুলিতে নুর হোসেনের প্রাণ গেলেও গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে কি? দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে কি? গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাসী বা বাহ্যিকভাবে হলেও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, সংগ্রাম, সেমিনার, সেম্পোজিয়াম প্রভৃতি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা কি নিজ বলয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সচেষ্ট রয়েছেন? ঈযধৎরঃু ইবমরহং ধঃ ঐড়সব প্রতিষ্ঠিত প্রবাদটি সর্বস্থলে সমাদ্দ্রিত। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলি কি সাংগঠনিক নিয়মে চলছে? সাংগঠনিক নিয়মনীতি শৃঙ্খলা ও কর্মীর মূল্যায়ন জামাত ইসলাম ও বাম দলগুলির মধ্যে থাকলেও বড় দলগুলি এর ধারে কাছে নাই। বরং একে অপরকে কি ভাবে ল্যাং মারবে এ ধরনের পরামর্শ উপরতালার তাদের নিকট থেকেই আসে যারা (কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব) দেশব্যাপী নিজস্ব বলয় সৃষ্টিতে সচেষ্ট রয়েছেন।

অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০শে ডিসেম্বর/২০১৮ ইং অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে আশা করা যাচ্ছে। নির্বাচনে ল্যাভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা উঠছে, কিন্তু প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে উঠছে আরও অনেক অনেক কথা যা শুনলে রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষেত্রে টান পোড়ন শুরু হয়। বানিজ্য অর্থাৎ রিমান্ড বানিজ্য, কমিটি বানিজ্য, গণগ্রেফতার বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্যের চেয়ে নমিনেশন বানিজ্যের কথা রসালো ভাবেই গ্রামগঞ্জে হাট বাজারে আলোচিত হয় যা নিয়ে কথা বলা আমার আজকের লেখার উদ্দেশ্য নহে বরং এ নিয়ে কথা বলতে উৎসাহ বোধ করি না, কারণ এ সব বিষয় শুনতে শুনতে গা শওয়া হয়ে গেছে। যারা রাজনীতিতে গুনগতমান উন্নয়নের কথা বলেন তারাও এ সব বানিজ্যের অংশীদার অথবা নির্ভোধ নির্বাক হয়ে পড়েছেন যা জ্ঞান পাপীর ভূমিকার সমতুল্য।  

নির্বাচন কমিশনের ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও দেশের ভাগ্য নির্ধারণ, সরকার গঠন, দেশ বাসীকে নিরাপত্তা সহ লালন পালন, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে রাষ্ট্রের অবস্থান সঠিক রাখা সহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা হেলা ফেলা হিসাবে দেখলে হবে না। পূর্বাপর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, রাজনীতির মাঠে বিচরন করা মানুষগুলিই রাজনেতিক নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতো। কারণ তারা জনগণের দাবী দাওয়া নিয়েই মাঠে থাকে, বৃষ্টিতে ভিজে, রৌদ্রে শুকায় এবং তাদেরকেই নির্বাচন নামক ভোটের মাঠে লড়াই করতে দেখা যেতো। কিন্তু সম্প্রতিকালে বাস্তব দৃশ্য হচ্ছে ভিন্নতর। সরকারী দলে মধু বেশী, অন্যদিকে পুলিশী নির্যাতন নাই, মামলা হামলার তো প্রশ্নই আসে না। ফলে হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারার জন্য সরকারী দলে নমিনেশন বিক্রির হিরিক পড়েছে। কিন্তু বিরোধী দলেও নমিনেশন ফর্ম কম বিক্রি হয় নাই। এর কারণ শেখ হাসিনা সরকারের দু:শাসনে ভুক্তভোগী নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের ঢল নেমেছে নমিনেশন ক্রয়ের জন্য, এ বিষয়টি সাধারণ মানুষ একটি উৎসব বলেই মনে করছিল। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ে হেভি ওয়েট প্রার্থীরা এম.পি হওয়ার জন্য নির্বাচনী মাঠকে যে ভাবে কোরবানীর হাঠে পরিনত করেছে তা নিতান্তই রঙ্গমঞ্চের তামাশার মতই মনে হচ্ছে যেমনটি সার্কাসের “সং” নামক নটরাজদেরও হার মানায়। ১/১১ সরকারের একজন খল নায়ক লে: জে: (অব:) মাসুদউদ্দিন বলেছেন যে, “শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না আসলে পিঠের চামড়া থাকবে না।” অথচ তিনি দাড়িয়েছেন লাঙ্গল মার্কায়। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, যা করছি শেখ হাসিনার নির্দেশেই করছি (সূত্র: জাতীয় দৈনিক তাং-০৩/১২/২০১৮)। জাতীয় নির্বাচন আসলে উপর তালার নটরাজদের রাজনৈতিক চরিত্র কত প্রকার ও কি কি তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাদের এ চরিত্রকে কোরবানীর গরুর হাটের সাথে তুলনা করে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে নিজেকে ছোট করতে না চাইলেও এর চেয়ে ভালো উপমা দেয়া এপ্রোপ্রিয়েট বলে মনে হচেছ না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়া দলের কর্মীর ন্যায্য অধিকার, দলের দায়িত্ব কর্মীকে নেতায় পরিনত করা ও কর্মীর পিছনে জনভিত্তি দাড়করানোর দায়িত্ব দলের। কিন্তু রাজনৈতিক দল সে কাজটি না করে দলীয় নেতৃত্ব পকেট ভারী করার খবর বিভিন্ন ভাবে চাওর হচ্ছে। নমিনেশন একটি স্বীকৃতি। এক স্বীকৃতি কাদের পাওয়া উচিৎ?

রাজনীতির মাঠটি দিনে দিনে যেন কোরবানীর গরুর হাটে পরিনত হয়েছে। নিয়ম নীতি ও আদর্শের এখানে কোন বালাই নাই। গরুর হাট সব সময় জমে না, কোরবানীর ঈদের সময় যতটা জমে। কাংখিত মূল্যে গাবতলীর হাটে বিক্রি না হলে মীরপুরের হাটে তো হবেই, ফলে পাইকার বা দালালদের আশার অন্ত থাকে না। নিজে যে আদর্শকে বিশ্বাস করে তা বাস্তবায়নের জন্য মানুষ রাজনীতি করে। নীতিবান মানুষের জন্য আদর্শিক রাজনীতি লুটেরাদের জন্য যা ভিন্ন কথা। অর্থনীতিতে উবসধহফ ধহফ ঝঁঢ়ঢ়ষু বলে একটি সঙ্গা রয়েছে। সে সঙ্গাতে বলা হয়েছে যে- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা প্রভৃতি মৌলিক চাহিদা যখন একজন ব্যক্তির পুরন হয়ে যায় তখন সে নাম/সুনাম ক্রয় করার চেষ্টা করে। অনুরূপ পার্লামেন্ট কি এবং পার্লামেন্টে কথা বলার যোগ্যতা আছে কি নাই তা বিবেচনা না করে যার টাকা আছে সেই কোরবানীর হাটের মত বিভিন্ন হাটে একটি টিকেটের জন্য ঘুরপাক খেতে থাকে। দলগুলিও তাদের লুফে নেয় যাদের টাকা আছে এবং এ অবস্থায় টাকা বৈধ না অবৈধ তা পর্যালোচনার প্রয়োজন মনে করে না, যদিও নেতারা মূখে মূখে আদর্শ ও নীতি বাক্যে আওরাতে কম যায় না।  

শর্ষে যদি ভুত থাকে তবে রাজনীতির গুনগতমান বৃদ্ধি হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। জাতি যাদের দিকে তাকিয়ে থাকে তাদের চরিত্র যদি হয় কুলষিত অর্থাৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বা প্রার্থী বাছাই এ গুনগত বিষয় পর্যালোচনা বা বিবেচনা না করে “বিত্তমান” হওয়াটাই বিবেচনার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে পড়ে তবে গুনগতমান উন্নতির পরিবর্তে নিম্মদিকেই ধাবিত হবে এবং হচ্ছে। স্বৈরাচার ও দু:শাসন ঠেকাতে হলে জনগণ লাগবে, জনগণ তখনই নামবে যখন নেতৃত্বের স্বচ্ছতা থাকবে। নেতার বক্তব্য ও ব্যক্তিগত চরিত্রের গুনগত ডিফারেন্স বুঝার বা উপলব্দি করার ক্ষমতা নিশ্চয় জনগণের রয়েছে। জনগণ এখন ভাবাবেগে চলে না, বরং বাস্তবতায় বিশ্বাসী।  

সরকারের দু:শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ কেন মাঠে নামলো না বা গণবিপ্লব বা গণ বিস্ফোরন কেন ঘটলো না এ নিয়ে জাতীয় নেতৃত্বের নিকট কোন গবেষণামূলক তথ্য নাই। যদি থাকতো তবে নিশ্চয় তা প্রকাশ পেতো। মূলত: এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে যে, একদিকে জাতীয় নেতাদের সারশুন্য বক্তব্য অন্যদিকে সরকারের মিথ্যাচার, এ দুটাই জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে। একটি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের মধ্যে যে আশা আখ্যাংকার প্রতিফলন হওয়ার কথা গ্রামে গঞ্জে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। ইতোপূর্বে নিকট সম্প্রতিকালে জনগণ নির্বাচন দেখেছে যেখানে কেবল আদর্শিক ব্যক্তির চেয়ে দলগুলি ধনবানদেরই বেশী প্রাধান্য দিয়েছে, যার ফলে জনগণ শোষিত হয়েছে বার বার। পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় আদর্শের যেমন কোন বালাই নাই, ঠিক তেমনি নির্বাচনের উদ্দেশ্য (রাষ্ট্রীয়) শাসন ব্যবস্থায় নিজ, নিজের পরিবারের ও অনুগতদের ভাগ্য পরিবর্তনে নিজেকে অংশীদার করা। সোরোয়ার্দী উদ্যানে প্রধান অতিথির ভাষনে ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত মহাসমাবেশে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন যে, টাকা ওয়ালাদের পিছনে ঘুরবেন না, আদর্শিক ব্যক্তি চাই। আদর্শবান ব্যক্তি তারাই যারা জনগণের সাথে সম্পৃক্ত, জনগণের প্রতি যার ত্যাগ ও সার্ভিস রয়েছে। কিন্তু দলীয় মূল্যায়নের বিষয়ে আদর্শবান ব্যক্তিরাই এখন আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। দল ছুটেরাই প্রাধান্য পাচ্ছে। এখন ও বিষয়টি ড. কামাল হোসেন কোন বিবেচনায় নিবেন?  

দলে যখন বির্পজয় নেমে আসে তখন আর ধনবানদের খুজে পাওয়া যায় না, কিন্তু ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তারাই থাকে লুট পাটের প্রথমাংশে। রাজনীতিকে রাজনীতির পরিমন্ডলে পরিমাপ করা উচিৎ এবং এ ব্যাপ্তয় হওয়ায় আজ লুটেরাদের নিকট রাজনীতি বশীভুত হয়ে পড়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণ। যার জন্য জনগণকে সারা বৎসরই নাজাহেল হতে হয়। টেম্পোচালক, বেবী ট্যাক্সি চালক, ফুটপাতের হকার, রাস্তার পাড়ের পিঠা বিক্রেতা থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের লোককেই ২টা ট্যাক্স দিতে হয়। একটি সরকারী ট্যাক্স, অন্যটি সরকারী দলের জন্য ট্যাক্স। সরকারী দলীয় ট্যাক্স আদায় হয় দলীয় এম.পি’কে কেন্দ্র করে যার ভাগ বাটোয়ারা হয় এম.পি নির্দেশিত পথেই। জনগণ থেকে দলীয় ব্যানারে আদায়কৃত অর্থ এম.পি তহবিলে জমা হতে থাকে পরবর্তী আর একটি নির্বাচনের তহবিল গঠনের জন্য। এ সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলি মুখে মুখে অনেক নীতি কথা বললেও বাস্তবতা তার উল্টো।

রাজনীতির গুনগত মান উন্নয়নের জন্য জাতীয় নেতাদের মূখে মূখে চিড়া ভিজালে হবে না। জাতীয় নেতৃত্বের মনে যদি মোনাফেকী না থাকে তবে তারা নিশ্চয় গূনগত মান উন্নয়নের জন্য দৃশ্যমান কিছু ভূমিকা রাখবেন। ভালো ফসল পেতে হলে ভালো বীজ অবশ্যই বপন করতে হবে। মাঠে ময়দানে যাদের কোন ভূমিকা নাই শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ম্যানেজ এবং বিত্তবান হওয়ার কারণেই এম.পি পদে মূল্যায়িত হয় তবে দল রাজপথের কর্মীদেরই অবমূল্যায়ন করলো যেমন কোরবানীর হাট বিশেষে গরুর দাম উঠা-নামা করে। নিষ্ঠাবান কর্মী যদি মূল্যায়িত না হয় তবে দলে সুবিধাবাদী ও সুবিধা সন্ধানীদের পদচারনায় দলের ক্রাকডাউন (ঈজঅঈক উঙডঘ) কেহ ঠেকাতে পারবে না, যেমনটি এখন পারছে না।

সরকারের মূল শক্তি পুলিশ ও বিচার বিভাগ। এর পরিবর্তে বিরোধী দলের শক্তি হতে হবে জনগণ ভিক্তিক। জনগণকে সাথে নিয়ে যাদের মাঠে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তারাই পারবে কেন্দ্র পাহাড়া দিয়ে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে। দল ভারী আর পকেট ভারী এক কথা নহে। রাজনৈতিক দল হতে হবে কর্মী ভিত্তিক এবং নেতৃত্ব উঠে আসতে হবে কর্মী থেকে। যদি তা না হয় তবে বিত্তবানদের কবলে দল বশীভুত হওয়ায় এখন কর্মী আর কর্মচারীর মধ্যে কোন তফাৎ পরিলক্ষিত হয় না। ফলে লক্ষ কোটি জনসমর্থিত দলকেও পুলিশের বুটের তলায় পদ দলিত হতে হয়। এর একমাত্র কারণ রাজপথে নিবেদীত, নিষ্ঠাবান ত্যাগী নেতাকর্মীদের অমূল্যায়ন করে ধনবানদের প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আকৃষ্ঠ হওয়ায় অপসংস্কৃতি।

নেতৃত্বের প্রতি যখন মানুষের হতাশা নেমে আসে তখন সে নেতৃত্ব অকার্যকর হয়ে যায়। কর্মীরা মাঠে নামে না। আন্দোলন সংগ্রামে বাস্তবমূখী ভূমিকার পরিবর্তে নেতাদের মধুবানী শুনতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আর সরকারী নির্যাতন থেকে বাঁচার দিনগুনতে থাকতে, কিন্তু নেতৃত্বে ফাকাবুলিতে যখন হতাশা নেমে আসে তখন তাদের পা আর চলে না। এখন পরিবারের একাধিক সদস্যের এম.পি হওয়ার শখ অনেক প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। অথচ ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন নাই।

সংবাদ শিরোনাম