LOGo  


২৪ ঘন্টা আপনার পাশে, আপনার সাথে ডেইলি নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডটকম

dailynarayanganj24@gmail.com

 

 

সরকার জাতিকে কতটুকু বোকা মনে করে?-তৈমূর

ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকম: নির্বাচনের পূর্বে সংলাপের কোন

প্রয়োজন নাই এ মর্মে সরকার অত্যান্ত আপোষ বিমূখ থাকলেও সম্প্রতি বিএনপি সহ সকল দলের সাথেই সংলাপ করেছেন এবং ক্ষুদ্র পরিসরেও আরো আলোচনা হচ্ছে ও হবে বলে জানা যায়। স্বাধীনতা পূর্ব থেকেই এ দেশের সংলাপের ইতিহাস অনেক রুঢ়, অনেক কন্টক ময়। ব্যর্থ হয়ে ছিল মুজীব-ইয়াহিয়া বৈঠক বা সংলাপ, স্বাধীনতার পর যে কয়টি সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে হয়েছে তাহাও সফলকাম হয় নাই। জাতি মাঝে মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বটে কিন্তু মুক্তি যুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন ছাড়া এর স্থায়ীত্ব ঘটেনাই, যেমনটি নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের সাংবিধানিক সংশোধনকে আরও একটি সংশোধনে বাতিল করে সরকার বলছে যে, সংবিধান থেকে একচুলও তারা এখন আর “নড়বেন” না। এ “নড়ানো” বা “না নড়ানো” থেকেই জাতির দ্বিধাভিবক্তি, তবে “নড়ানোর” পক্ষেই বেশী ধাবিত হচ্ছে। এক সময় সরকার বলতো যে, পাকিস্তান পন্থী আগুন সন্ত্রাসী বিএনপি জামাত নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না, কিন্তু এখন দেখা যায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে যারা বীর যোদ্ধা (ঝঞঅজ) ছিল তারাও ০৬/১১/২০১৮ ইং তারিখে সরোয়ারর্দী উদ্যানে বিএনপি’র সভাপতিত্বে জনসভা করেছেন যাদের প্রধান দাবী ছিল বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ রাজবন্দীদের মুক্তি, শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন। এখানে জোর গলায় দাবী তুলেছেন জনসভার প্রধান অতিথি ড. কামাল হোসেন, প্রধান বক্তা আ.স.ম আব্দুর রব যারা এক সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজীবের ঘনিষ্ঠ ও দক্ষিন হস্ত ছিলেন। যদিও আওয়ামী ঘরনার বিচারপতি সামছুদ্দিন চৌধুরী মানিক ড. কামালকে রাজাকার বলেছেন (সূত্র: জাতীয় পত্রিকা)। অন্যদিকে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় কাদের সিদ্দীকিকে ইতোপূর্বেই বহুবার রাজাকার বলে সম্বোধন করা হয়েছে যা তিনি নিজের মূখেই প্রকাশ করেছেন। যারা শেখ মুজীবকে অশালীন ভাষায় সমালোচনা করে ছিল তারাই এখন শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী সভায়। এখন মেরু করণ যা হচ্ছে তাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকারের “চেতনা” কোথায় গিয়ে গাড়াবে যখন স্বাধীনতার যোদ্ধারা ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপি মঞ্চে অবস্থান নিয়েছে? এখন বিষয়টি সহজেই অনুমেয় যে, “স্বাধীনতার চেতনার” একমাত্র সোল এজেন্ট আওয়ামী ঘরনার বুদ্দিজীবি ও সরকার এ “চেতনার” কতটুকু (ঝঅখঊ) বাজারজাত করতে সক্ষম হবেন? ফলে এটাই সাবস্ত করা যায় যে, শেখ হাসিনা সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী যারা তাদের পক্ষে থাকবে তারাই “স্বাধীনতার চেতনাধারী” বাকীরা সব পাকিস্তানী রাজাকার (!)

পূর্বেই বলেছি যে, এ দেশের সংলাপ সফল হওয়ার ইতিহাস খুবই মলিন আর কালক্ষেপন। কারণ যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের ক্ষমতাকে ধরে রাখার কামনা বাসনা অনেক তীব্র থেকে তীব্রতর। সে কারণেই সংলাপ সফল না হলেও কিছু কথা বেরিয়ে আসে যা থেকে ক্ষমতাসীনরা দেশবাসীকে কতটুকু ওজনে মাপে বা কতটুকু জ্ঞানী বা বোকা মনে করে তা অনুমান করা যায়। প্রথম দিন সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের নিকট যে ব্রিফিং করেছেন তাতে বুঝা যায় যে, সফল রাজনৈতিক মামলার একটি তালিকা তার (ওবায়দুল কাদের) নিকট জমা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ করেছেন, যদি তাই হয় তবে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, দেশব্যাপী মৃত্য ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত, অসুস্থ্য, পঙ্গু এমন কি অন্যমামলায় কারাগারে আছে তাদেরসহ হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে যে গায়েবী মামলা হচ্ছে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না (!) এখানে উল্লেখ যে, রাজনীতি কোন সংবিধানিক বা ফৌজদারী অপরাধ নয়, ফলে রাজনীতি করার অপরাধে কোন আইন আমাদের দেশে নাই। তবে সরকার প্রতিপক্ষকে দমানোর উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিল করার জন্য দায়েরকৃত মামলাই রাজনৈতিক মামলা। প্রতি জেলায় প্রতি মাসে সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে ২৫-৩০-৪০টি গায়েবী মামলা হচ্ছে যার সাথে সত্যতার কোন লেশমাত্র নাই। একদিকে সরকার বলছে রাজনৈতিক মামলার তালিকা দেন, অন্যদিকে প্রতি দিনই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে, বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ হাই কোর্টে আগাম জামিন নিতে এসে হয়রানী হচ্ছে যা সরকার জানে না, এ দ্বিমূখী কথা বর্তায় কি বোঝা যায় যে, সরকার সত্যিই কি কোন সমাধান প্রত্যাশা করেন? রাজনৈতিক মামলার জ্ঞান প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া সমিচীন নহে, কারণ তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়েছেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে প্রধানমন্ত্রী যদি রাজনৈতিক মামলা মনে করেন, তবে গায়েবী মামলাগুলিও রাজনৈতিক। তফাৎ শুধু একটুকুই আগরতলা মামলা সাজিয়ে ছিল পাকিস্তানী পুলিশ, এখন দেশব্যাপী গায়েবী মামলা সৃজন করছেন স্বাধীন দেশের স্বাধীন পুলিশ যারা আইনের উর্দ্ধে নিজেকে মনে করে।   

সরকার রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থাৎ সরকারের কাজই রাষ্ট্রীয় কর্ম বলে গণ হবে। রাষ্ট্র কি জঘন্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে? রাষ্ট্র একদিকে বিরোধীদের মামলা দিয়ে অর্থাৎ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে “গায়েবী” মামলা দিবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রনায়ক তালিকা চাইবেন তাকি হাস্যাসপদ না এড়িয়ে যাওয়ার উপহাস মাত্র। অনেক সরকারই নিজ অবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য সংবিধান বা আইন তাদের মন মত ব্যাখ্যা করছেন, কিন্তু সম্প্রতিকালে এখন সে ব্যাখ্যা আর বাজার জাত হচ্ছে না। সরকারে মূখপাত্র ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে প্রেস ব্রিফিং বা সভা সমাবেশে সরকার বিরোধীদের “স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী” বলে প্রমাণের কম চেষ্টা তিনি করেন নাই, ক্ষমতাসীন দলের মূখপাত্র হিসাবে তার চবৎভড়ৎসধহপব জনগণ কতটুকু হজম করছে তা ক্ষমতা থাকা অবস্থায় বুঝা যাবে না। তবে পুলিশ দিয়ে নাশকতার পরিকল্পনায় দেশবাসীকে যে ভাবে জড়ালেন তাতে সরকার কতটুকু সফল হয়েছে? জাতিকে দ্বিখন্ডিত করে রাখতে পারলে সরকার হয় লাভবান। ব্রিটিশের “উওঠওউঊ অঘউ জটখঊ” এখন স্বাধীন দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা নিশ্চয় স্বাধীনতার চেতনা হতে পারে না।  

সরকার জাতিকে বোকা মনে করলেও সরকার যে সস্থিতে আছে তাহাও বোধগম্য নহে। সরকার যদি আরো একটি একতরফা নির্বাচন করে তখন খুনাখুনী মারামারি হবে সরকার দলীয়দের মধ্যে, ইতোমধ্যে যা শুরু হয়েগেছে। সরকারী দল থেকে ডজন খানেক এম.পি প্রার্থী রয়েছে যারা হাল নাগাদ ভোটার হয়েছে। এমনিতেই বাংলাদেশের রাজনীতি “মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা” অন্যদিকে বিরোধীদের নির্যাতনের জন্য একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তা হলে “গায়েবী” মামলা। “গায়েব” থেকে “গায়েবী” শব্দের উৎপত্তি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যদি কোন দিন গণতন্ত্র ফিরে আসে, অর্থাৎ গণতান্ত্রিক অবয়য়ে স্বাধীন সাংবিধানিক প্রাতিষ্ঠানিকগুলির চেতনার উদ্ভব ও জবাব দিহিতার আওতায় আসে এবং ভবিষ্যত প্রজম্মের নিকট এই গায়েবী মামলার যুগটি যখন একটি “আইনী বর্বরতার” যুগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে তখন ভুক্তভোগী গণমানুষ ও পরবর্তী বংশধর শেখ হাসিনা সরকারকেই স্বরণ করবে।

বিএনপি’র তাগিদে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলেও বিএনপি লাভবান হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি নাই, কারণ দলীয় চেয়ারপার্সন এখনো কারাগারে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী। কারণ এতোদিন যারা জয় বাংলা বলে বক্তৃতা করতো তারা এখন বিএনপি’র সভাপতিত্বে বক্তৃতা করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবীতে বক্তব্য রাখছেন। ফলে বিএনপি জামাত স্বাধীনতা বিরোধী চক্র সরকার উৎক্ষাতের ভাঙ্গা রের্কড “মিউজিকাল চেয়ার” খেলার মত। নীতি আর্দশের বালাই নাই, টাকা হলেই হলো। এখন এম.পি হওয়ার বড় যোগ্যতা টাকা। টাকা উপার্জনের উৎস্য ব্যাংক লুট না ভূমি দস্যুতা না ঘুষ ও ঘুষের দালালী তা জনগণ বিচার বিবেচনা করে না, যার টাকা আছে (রাজনীতিতে অবদান থাকুক বা না থাকুক) সেই ব্যক্তিই এম.পি হতে চায়, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলিও টাকা ওয়ালাদের সম্মান করে যার পর নাই, কারণ টাকার অভাবী তারাও। ফলে জাতীয় সংসদ হয়ে উঠে কোটি পতিদের ক্লাব এবং এ জন্যই এম.পি প্রার্থী হওয়ার হিরিক লেগেছে।  

জনমতের চাপে পুলিশ বেষ্ঠিত সরকার এখন নিশ্চয় বেকায়দায় পড়েছে। ৫ই মে শাপলা চত্তরের সমাবেশে হেফাজতের কর্মী হত্যার অভিযোগ তাদের (হেফাজত) পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। নিহতের সংখ্যা ৬৫ দাবী করায় আই.সি.টি এক্টে “অধিকার” নামক সংগঠনের কর্মকর্তা একজন আইনজীবি জেলে ছিলেন দীর্ঘ দিন। অল্প কিছু দিন পূর্বেও মন্ত্রী ও আওয়ামী বুদ্দিজীবিরা তেতুল হাজী বলতে হেফাজত প্রধানের সমালোচনায় মূখরিত ছিল, কালের বির্বতনে তেতুল হাজীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী “কাওমী জননী” উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। আওয়ামী ঘরনা এখন হেফাজত প্রধানকে এখন আর তেতুল হাজী বলবেন না, কারণ টক তেতুল এখন মিষ্টি লাগছে। তাই দৃঢ়তার সাথে পুনরায় বলছি, রাজনীতি এখন একটি “মিউজিক্যাল চেয়ার”, ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণের জন্য যে কোন এক চেয়ারে বসতে পারলেই হলো। কিন্তু জনগণকে এতো বোকা ভাবা সমাচীন নহে, তবে জনগণ অসহায় এ কারণে যে, ঘরে বাহিরে কোথাও গনতন্ত্র নাই। অর্থ ভিত্তিক পরিস্থিতি পরিবেশ সব কিছুই নিয়ন্ত্রন করে, তাই গানের জলশায় অনেক সময় কোকিল কন্ঠি পাখীও তার সূর হারিয়ে ফেলে এবং এটাই বাস্তবতা। ফলে “নৈতিকতা” প্রবেশের দ্বার বন্ধ হয়ে গেছে আপন ভূবন থেকেই, এর মূল কারণ মূর্খতা ও পরশ্রীকাতরতা সহ দূরদৃষ্টির অভাব এবং ইতিহাসের অবমূল্যায়ন। ইতিহাস না জানা, ইতিহাস বিকৃত করে রচনা করে, নিজের (ক্ষমতাসীন) ইচ্ছামত ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ থেকে জাতীয় নেতৃত্ব অনেক দূরে। ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে ফাসি কাষ্টে ঝুলার ইতিহাস অগনিত, ইতিহাসের পাতায় অনেক ক্ষমতাধরকে “ঝাড়– পেটানোর” অনেক তথ্য থাকলেও ক্ষমতাসীনদের মনোরঞ্জনের জন্য উল্টো ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য চাটুকারদের অভাব হয় না।

সংবাদ শিরোনাম