ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমান–কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে একযোগে কাজ করার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।
লন্ডন থেকে পাঠানো ওই অভিনন্দনবার্তায় কিয়ার স্টারমার বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, কমনওয়েলথের বন্ধন এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মাধ্যমে আরও গভীর হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বার্তায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ অভিন্ন অগ্রাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আর্থিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত দেন। মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টি বার্তায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। কিয়ার স্টারমার বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে তথ্য বিনিময় ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে কিয়ার স্টারমার বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সমন্বয় আরও জোরদার করা দরকার। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যৌথ অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বার্তার শেষাংশে কিয়ার স্টারমার দুই দেশের অংশীদারত্বের পরবর্তী অধ্যায়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারে। নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ফল বয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিনন্দনবার্তাটি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ঢাকায় পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বার্তায় উল্লিখিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে শিগ্গিরই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হতে পারে। নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড়ো একটি অংশ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত রেখেছে। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। অভিনন্দনবার্তায় যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে— বিশেষ করে বাণিজ্য, জলবায়ু ও অভিবাসন— সেগুলো আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ঢাকা-লন্ডন সম্পর্কের গুরুত্বকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। দুই দেশের ঘোষিত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

