ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের সংযোগস্থল রূপসী মোড়। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন লাখো মানুষ। মোড়ের ঠিক মাঝখানে আকাশপানে উঁচিয়ে ধরা একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতে রাইফেল মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা মনে করিয়ে দিতে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি এখন নিজেই ধুঁকছে অবহেলায়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, বিভিন্ন পোস্টারের দাপট আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপে এর নান্দনিকতা ও মর্যাদা এখন তলানিতে। স্মৃতিস্তম্ভের মূল বেদী থেকে শুরু করে ওপরের অংশ পর্যন্ত ছেয়ে গেছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পোস্টারে। আঠা দিয়ে লাগানো এসব পোস্টারের কারণে স্মৃতিস্তম্ভের টাইলসগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব প্রকাশ করা এই স্মারকটি এখন যেন এক বিশাল বিজ্ঞাপনের বোর্ডে পরিণত হয়েছে। এক সময় এই স্তম্ভের নিচে একটি দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা ছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পাম্প ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে ফোয়ারাটি এখন পরিত্যক্ত। ফোয়ারার চৌবাচ্চায় জমে আছে বৃষ্টির পানি আর প্লাস্টিকের বোতল ও চিপসের প্যাকেট। জমে থাকা এই পচা পানি মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রাতের বেলা কোনো আলোকসজ্জা না থাকায় এলাকাটি ঘুটঘুটে অন্ধকারে থাকে, যার সুযোগ নেয় স্থানীয় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠন এখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু বছরের বাকি ৩৬২ দিন এর কোনো খোঁজ কেউ রাখে না। স্তম্ভের ঠিক নিচেই হকারদের অবৈধ দখল আর যত্রতত্র আবর্জনা ফেলায় এর পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, লুঙ্গি পরে কাঁধে রাইফেল তুলে নিয়েছিলাম এই দেশের জন্য। সেই সংগ্রামের স্মরণে বানানো এই অস্ত্রধারী হাতটি যখন পোস্টার আর ময়লায় ঢাকা থাকে, তখন মনে হয় আমাদের আত্মত্যাগই যেন অপমানিত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রাতের আঁধারে স্তম্ভের নিচের অংশটি ভাসমান মানুষ ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। রূপসী মোড় দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এটি তার মর্যাদা হারাচ্ছে। স্মৃতিস্তম্ভটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গায় নির্মিত হলেও এর তদারকির নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। সওজ এবং স্থানীয় পৌরসভার মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমন্বয়হীনতার কারণেই স্থাপনাটি আজ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে আছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহজাদা ভূঁইয়া বলেন,যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ, তাঁদের স্মরণে নির্মিত স্তম্ভটি এভাবে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি দ্রুত সংস্কার করে এর চারপাশের পরিবেশ পবিত্র রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব।
রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন,আমরা খুব দ্রুতই এটি সংস্কার করার জন্য আমরা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে রূপসী মোড়ের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারকটি দ্রুত পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

