ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হামলা, ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ ও নির্বাচনী প্রচারে বাধাদানের মতো ঘটনায় আগামী দিনগুলোতে সংঘাত-সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা বেড়ে চলেছে।
গত রোববার রাতে ভুলতা-বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের বাইপাস বাঘানগর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের সমর্থক সাবেক ছাত্রদল নেতা আমির হোসেনের প্রাইভেটকারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য বেঁচে যান ওই নেতা। তিনি নিবার্চনী প্রচার শেষে আড়াইহাজার থেকে প্রাইভেটকারে করে নিজ বাড়ি শ্রীনিবাসদীর দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে ছিলেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাদেকুর রহমান সাদেক। একই দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলে থাকা অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তাদের গাড়ির কাছাকাছি এসে চলন্ত অবস্থায় গাড়ির ডান পাশ ও সামনে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে তদন্ত কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামী মহিলা শাখার একটি দল উপজেলার গোপালদী পৌরসভায় গণসংযোগকালে বাধা দেয় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রশিবিরের একটি টিম সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন। জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে লুটপাট
গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাড়ৈপাড়ার বাসিন্দা জামায়াত সমর্থক কবির হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় পরিবারের ছয় সদস্য আহত হয়েছে।
কবির হোসেনের স্ত্রী আফসানা আক্তার বলেন, ২০-৩০ জনের মুখোশধারী সশস্ত্র একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। লুটে নেয় নগদ টাকা, পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লা এ ঘটনার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহম্মেদ জানান, বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তায় জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে নানা অজুহাতে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। বিএনপির কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সমর্থকদের প্রচারে বাধা সৃষ্টি করে না, করবেও না। জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।
আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, প্রতিবেশীদের সঙ্গে কবির হোসেনের পরিবারের বিরোধের জের ধরেই পার্শ্ববর্তী মান্দারপাড়া এলাকা থেকে লোকজন এনে তাদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।
এদিকে, কবির হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লার নেতৃত্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে দলটি। ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি প্রদান শেষে দোষীদের শাস্তির জন্য দুদিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি জানান জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লা, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কলস প্রতীকের আতাউর রহমান আঙ্গুর। তারা জানান, রাতের আঁধারে তাদের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে হচ্ছে। প্রচারে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে থাকায় বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। তবে থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন
জানান, এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চলছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ যৌথ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আড়াইহাজারের ইউএনও আসাদুর রহমান জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

