ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির সমার্থক শব্দছিল‘আতঙ্ক’আর‘পেশিশক্তি’। গডফাদার সংস্কৃতির যাঁতাকলেপিষ্ট এই জনপদে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বইছে ভিন্ন হাওয়া। তবে সাধারণ ভোটারদের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৃণমূলের মানুষকি সত্যিই কোনো অদৃশ্য চাপ বা থ্রেট ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে? নাকি‘ভয়ের সংস্কৃতি’এখনো ছায়ার মতো তাড়া করছে তাদের?
শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বসে আনমনে ঢেউ গুন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব মজিবর রহমান। কিন্তু তার চোখে উৎসবের চেয়ে শঙ্কার ছাপই বেশি। বিকেলে হাঁটতে আসা শীতলক্ষার স্কুল ঘাটে নদীর ধারে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “মিয়া, অনেক বছর তো ভোট কেন্দ্রে গিয়া দেখি আমাগো কামনাই, ভোট আগেই অইয়া যায়। এবার শুনি সবাই ভোট দিতেপারব। তয় মনের ভিতরের ডরটা তো এক দিনে যায়না।
মজিবরের মতো এই ভয় কেবল একারনয়। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আকাশে যে ‘ভয়ের সংস্কৃতি’কালো মেঘের মতো জমেছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি সাধারণ মানুষের মন থেকে। এক সময় এখানে ভোট মানেই ছিল নির্দিষ্ট কোনো‘গডফাদারের’ইশারা। সাধারণ মানুষের রায়ের চেয়ে পেশি শক্তির গর্জনই ছিলএখানে শেষ কথা।
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া, নিতাইগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকার অন্তত ২০ জন সাধারণ ভোটারের সাথে কথা বলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
চাষাড়া মোড়েরএক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে ভোটের সময় হলেই ‘বড়ভাইদের’ চাপে থাকতে হতো, এবার সেই চাপ নেই কিন্তু অনিশ্চয়তা আছে।
অন্যদিকে, নিতাইগঞ্জের শ্রমিকদের দাবিতারা কেবল‘শাšিন্তপূর্ণ পরিবেশ’নয়, বরং‘ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা’চান।
আর ফতুল্লার বাসিন্দারা মনে করেন, এক গডফাদারের বিদায়ে যেন অন্য কোনো নতুন গডফাদারের উত্থাননা ঘটে, প্রশাসনকে সে দিকেই কড়া নজর রাখতে হবে।”
নারায়ণগঞ্জের অলিতে-গলিতে এখন রাজনৈতিক আলাপ জমে উঠলে ও একটা সূক্ষ্ম ‘সাবধানতা’ কাজ করছে।চাষাড়ার এক চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েক জন যুবক। নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন সকরতেই তাদের একজন চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে নিচু স্বরে বলেন, “আগে কথা বলতে গেলে চার পাশ তাকাতে হতো। এখন কথা বলছি ঠিকই, কিন্তু ডর লাগে আবার সেই দিন ফিরে আসবেনা তো? গডফা দাররা বদলায়, কিন্তু তাদের উত্তর সূরিরা তোপাড়া-মহল্লায়রয়েই গেছে।”
শহর ছাড়িয়ে শীতলক্ষ্যার ওপাড়েই বন্দর এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, রাজনীতির‘ পেশি শক্তির’আঁচ এই পাড়েই সবচেয়ে বেশি লাগত।
ঘাটে নৌকার অপেক্ষায় থাকা কারখানা শ্রমিক রেদয়ান (৩৫)বলেন, “আমাগো বন্দর ছিল কবরের মতো শান্ত। কারে ভোট দিমু হেইডা আগে থেইকা ঠিক কইরা দিতকি ছুমুখচেনা লোক। এই বার যদি নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারি, তবেই বুঝমু দিন দলাইছে।
বন্দরের এক” গৃহব ধূরমনে ও সেই একই চিন্তার ভাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, “ভোটের আগের রাতে যখন এলাকায় বাইকের মহড়া শুরু হয়, তখন কলিজা কাঁপে। আমরা কোনো রাজার লড়াই দেখতে চাইনা, শান্তিতে ভোট দিয়া ঘরে ফিরতে চাই।নির্বাচন শেষ নাহলেই যেন আবার এলাকায় মাস্তানি শুরু না হয়, হেইডাই বড়কথা”
এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে প্রায় অনেকনতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। এই তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘গডফাদার’ বা ‘পেশিশক্তি’ কোনো আদর্শ নয়। তারা চান আধুনিক টেকসই নারায়ণগঞ্জ।
সরকারি তোলারাম কলেজেরম শিক্ষার্থী প্রদীপ চন্দ্র বৈরাগী জানান, “আমরা এমন কাউকে প্রতিনিধি চাইনা যারমনাম শুনলে সাধারণ মানুষ ভয়ে তটস্থ থাকে। আমরা চাই এমন নেতা, যার কাছে অভিযোগ নিয়ে সরাসরিযাওয়াযায়।
সচেতন নাগরিক কমিটি নারায়ণগঞ্জের সদস্য সানোয়ার তালুকদার বলেন, “নারায়ণগঞ্জের মানুষ কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়না, তারা চায় গুণগত পরিবর্তন। যদি একজন গডফাদারের বিদায়ের পর অন্য কেউএকই পথে হাঁটে, তবে ভয়ের সংস্কৃতি দূরহবেনা। ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারলেই কেবল বলা যাবে গডফাদার-মুক্তরাজনীতির সূচনা হয়েছে
আসন্ন নির্বাচন নিয়েমস প্রশাসনের কড়াহুঁশিয়ারি, তবে এবারের চিত্রতা..কিছুটা ভিন্ন। সাধারণ মানুষের মনের এই ভয়স কাটাতে মসজিরোটলারেন্সনীতি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, ভোটের মাঠে কোনো ধরনের পেশি শক্তিবামা¯তানিবর দাশতকরা হবেনা।প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে কড়ানিরাপত্তা ও সিসি টিভি নজরদারি।ভোটারদের ভয় দেখালে বাবাই কমহড়া দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ এখন পরিবর্তনের অপেক্ষায়। ভোটাররা চান এমন একশহর, যেখানে রাজনীতি মানে আতঙ্কনয়, বরংহবে উন্নয়নের হাতিয়ার।
নারায়ণগঞ্জের৫টি সংসদীয় আসনেই এখন দাবি একটাই,তাহচ্ছে পেশিশক্তি ও গডফাদার-মুক্ত নির্বাচন। প্রশাসন ও নির্বাচনক মিশনের পক্ষ থেকে কড়ানিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলে ও সাধারণ মানুষ তার চাক্ষুষ প্রমাণ চায় ভোটের দিন। শহরের বুক সচিরে বয়েচলা যানজট আর কোলা হলের মাঝে সাধারণ মানুষের একটাই আকুতি এবার যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রতীকেই নির্ভয়ে সিলটা মারাযায়।

