ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনের মাথাল মার্কার প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী ও গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান জননেতা অঞ্জন দাস তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) মোগড়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট সাদিপুর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলামের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি এবং দণ্ডবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
উক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, কে কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছে তা “মার্ক করা হবে”, ভোটারদের ওপর “গোয়েন্দা লাগানো হয়েছে” এবং নির্বাচন শেষে অন্য প্রতীকে ভোট পড়লে “কোনো রেহাই থাকবে না”এই বক্তব্যগুলো সরাসরি ভোটারদের স্বাধীন ভোটাধিকার, ভোটের গোপনীয়তা এবং মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার হুমকি। এই ধরনের ভাষা কেবল রাজনৈতিক অসৌজন্য নয়, বরং পরিকল্পিত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধের ঘোষণা, যা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে।
অঞ্জন দাস বলেন, একজন প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িয়ে কেউ যদি প্রকাশ্যে ভোটারদের ওপর নজরদারি, তালিকা করা ও শাস্তির হুমকি দেয়, তবে সেটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করার শামিল। ভোটারদের বোঝানো হচ্ছে তারা স্বাধীন নন, তারা নজরদারির আওতায়। এটি গণতন্ত্র নয়, এটি ভয়ভিত্তিক দমননীতি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বক্তব্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলামের একজন সমর্থক ও দলীয় পদধারী ব্যক্তি দিয়েছেন। কোনো প্রার্থী যদি নিজে এই বক্তব্য না-ও দিয়ে থাকেন, তবুও তাঁর পক্ষে কর্মরত ব্যক্তির এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্যের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। নির্বাচনী আইনে প্রার্থীর পক্ষে করা কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনগত দায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ওপর বর্তায়।
অঞ্জন দাস নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে উক্ত ঘটনার স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনে ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
তিনি আরও বলেন, ভোট জনগণের অধিকার কোনো দলীয় নেতা, কর্মী বা প্রভাবশালী ব্যক্তি ভয় দেখিয়ে এই অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। জনগণকে হুমকি দিয়ে নয়, জনগণের রায়েই নির্বাচনের ফয়সালা হবে।

