ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ১০টি ওয়ার্ডে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২৪১ সদস্যের পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন ।
ওই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে। বাকি সকলকে সদস্য পদে রাখা হয়েছে। তবে এই পরিচালনা কমিটিতে মান্নান নিজে সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আছেন মামুন মাহামুদ। উপদেষ্টা হিসেবে আরো আছেন বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম রবি, আব্দুল হাই রাজু, এমএ হালিম জুয়েল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মনিরুল ইসলাম সজল, সাহেদ আহমেদ। অর্থাৎ রাজীবের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ভিন্ন সুত্র বলছে, মামুন মাহামুদ চেয়েছিলেন নির্বাচনের যাবতীয় ব্যয় ও পরিচালনাসহ সিদ্ধিরগঞ্জে মান্নানের নির্বাচনের সকল কিছু একচ্ছত্র দায়িত্ব, যা তার অনুগামীদের দিয়ে ১০টি ওয়ার্ডে পরিচালিত হবে। সিদ্ধিরগঞ্জের পুরো দায়িত্ব খবরদারী দাবি করেছিলেন মামুন। একইভাবে নির্বাচনের পর মান্নান বিজয়ী হলেও সিদ্ধিরগঞ্জে মামুন মাহামুদকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই লক্ষ্যে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে মান্নানের কাছে তদবিরও করিয়েছেন। এক পর্যায়ে মান্নান ইতিবাচক সারাও দিয়েছিলেন। কিন্তু মামুন মাহামুদ ষড়যন্ত্রকারী ৭জনের একজন হওয়ায় তাকে বিশ্বাস করতে পারেননি মান্নান। একই সঙ্গে মামুন মাহামুদ মান্নানের কাছে আরো অনেক কিছু দাবিও করেছেন, যা মান্নান পূরণ করতে আগ্রহী নন। এ ছাড়াও নিজের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় ব্যয় করেছেন বলেও দাবি তুলেছিলেন মামুন মাহামুদ। সেটা মান্নানকে পুষিয়ে দেয়ার ইঙ্গিত করেছিলেন।
কিন্তু যেসব নেতাকর্মীরা ঝুকি নিয়ে মান্নানের পক্ষে কাজ করেছেন, সেইসব নেতাকর্মীদের মাইনাস করে সকল দায়িত্ব মামুন মাহামুদের তুলে দিতে নারাজ মান্নান। যার ফলশ্রুতিতে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটিতে মামুন মাহামুদকে না রেখে মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে দায়িত্ব দিয়েছেন মান্নান। এ ছাড়াও নেতাকর্মীদের মনে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছেন মামুন মাহামুদ। মান্নান প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েই মামুন মাহামুদের কাছে ছুটে যান। কিন্তু হিংসাত্মক মামুন মাহামুদ মান্নানের পক্ষে নামেননি। উল্টো নেতাকর্মীদের সঙ্গে নানা মিথ্যা কথা বলে নেতাকর্মীদের নিজ বলয়ে আটকে রাখেন।
নিজে মনোনয়ন পাবেনা জেনেও তারেক রহমানের দোহাই দিয়ে নিজেই মনোনয়ন পাবেন বলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিথ্যাচার করে নিজ বলয়ে নেতাকর্মীদের ধরে রেখেছেন মামুন। নেতাকর্মীরাও মামুন মাহামুদের কথায় বিশ্বাস করে মান্নানের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি। এমনকি ২৪ ডিসেম্বর চূড়ান্তভাবে মান্নানকে মনোনিত করা হলে তখনও মামুন মাহামুদ ও তার অনুগামীরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে নামেননি। মান্নানের প্রতিনিধিরা সর্বাত্মকভাবে মামুন মাহামুদের অনুগামীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে ভোটের মাঠে নামতে অনুরোধ করলেও তারা নামেননি। মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ৭জন একজোট হয়ে তারেক রহমানের বরাবর দরখাস্ত দাখিল করেছিলেন মামুন।

