ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইঁয়ার শক্তপ্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সাধারন সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন।
নির্বাচনে প্রার্থী না হতে বিভিন্ন ভাবে দুলাল হোসেনের নেতাকর্মী সর্মথকদের উপর হামলা, মনোনয়ন বাতিল,নানা ধনের হুমকি দিয়ে দমাতে পারেনি এই নেতাকে। সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে মনোনয়ন ফিরে পাওয়া রাজপথের সক্রিয় দুলাল হোসেন রুপগঞ্জবাসির পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। তাই বিএনপির মনোনিত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইঁয়ার সামনে বড় ধরনের চ্যালেন হবে নির্বাচনে জয় লাভ করা।
রূপগঞ্জের স্থানীয় ছেলে হিসেবে দুলাল হোসেন রাজনৈতিক জীবনে ৯৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ৩০ বছর আগে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে তিনি বাড্ডা থানা ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য, সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সদস্য, ছাত্রদল মনোনীত তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদ ভিপি মনোনয়ন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সাধারণ-সম্পাদক, পরে কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নিযুক্ত হন। যুবদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুলাল হোসেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়ক কমিটি আহবায়ক সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন অগ্র সৈনিক। সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সম্মুখ সারীর একজন যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। সেই সাথে গড়ে তুলেছেন নিজের রাজনৈতিক এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারও। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠা এ ছাত্রনেতা এখন একজন পরিপক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ছাত্রদল যুবদলের রাজনীতি শেষ করে দুলাল হোসেন এখন রূপগঞ্জ থানা বিএনপির হয়ে কাজ করছেন। থানা বিএনপির রাজনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এরইমধ্যে তিনি নানা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সাবেক আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেন তিনি। রূপগঞ্জের স্থানীয় ছেলে হিসেবে দুলাল হোসেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে মাঠে থেকে যে ভূমিকা পালন করেছেন, তার স্মরণ রাখবে রূপগঞ্জবাসী।
৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে পূর্বাচল নিউটাউন ঘেরা রূপগঞ্জকে আধুনিকভাবে সাজাতে চান দুলাল হোসেন। এজন্য তিনি রূপগঞ্জ তথা নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে এলাকার তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গত ১৭ বছর রূপগঞ্জ ছিল সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে খ্যাত। সেই আগের অবস্থায় রূপগঞ্জকে তিনি আর নিয়ে যেতে চান না। তাই ভালো রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে এলাকার জনসাধারণের মাঝে ব্যক্তিগতভাবে একটি ক্লিন ইমেজ তৈরি করেছেন তরুণ এ নেতা। এলাকার দখল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সক্রিয় অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যে তিনি সকলের নজর আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। নিজের এমন ইমেজ নিয়ে দলেও ভালো একটি অবস্থান তৈরি করেছেন।
দুলাল হোসেনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় একজন বিএনপি নেতা প্রতিবেদককে বলেন, মোহাম্মদ দুলাল হোসেন বিদেশে বসে, এসি রুম থেকে বের হয়ে একদিনে নেতা তৈরি হয়নি। ঢাকার উত্তপ্ত রাজপথ থেকে তিলে তিলে বেড়ে ওঠা নেতৃত্ব দুলাল হোসেন। আগামী দিনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাণ্ডারি হিসেবে দেখতে চাই আমরা।
দুলাল হোসেনের ব্যক্তিগত ইমেজের বিষয়টি প্রায় সামাজিক মাধ্যমে উঠে আসে এজন্য তিনি একজন সত্তা জাতীয়তাবাদী হিসেবে ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে রূপগঞ্জবাসীর মুখেমুখে আছেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি লেখায় তিনি বিএনপির রাজনীতির ইমেজ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, নেতার সাথে ছবি তুলে সেই ছবি দেখাইয়া চাঁদাবাজী দখলবাজী করতে গেলে আইন প্রশাসনের হাতে তুলে দিন। তারপর যদি নেতা ফোন দেয় তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। দলের জন্য ৩০ বছর যৌবন হারিয়েছি। চাঁদাবাজদখলবাজদের জন্য দলের বদনাম শোনার জন্য নয়। আমরা ব্যানার ধরার জন্য, মিছিল করার জন্য ১৭ বছর যাদের পেয়েছি তারাই প্রকৃত কর্মী এবং নেতা। সুতরাং চাঁদাবাজী দখলবাজরা আমাদের দলের কেউ না।

