ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ যুদ্ধ বন্ধে প্রথমবার ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেন। ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ক্রেমলিনে তিন জন মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান ত্রিদেশীয় বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইউক্রেনকে চূড়ান্ত শর্ত দিয়েছে রাশিয়া। শর্ত হচ্ছে- ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের ত্রিদেশীয় বৈঠক চলছে। খবর আরটির।
ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, তিন পক্ষের নিরাপত্তা আলোচনায় রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন অ্যাডমিরাল ইগর কস্তিউকভ। একই সময়ে অর্থনৈতিক বিষয়ে রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। তিনি আরও বলেছেন, পুতিন জোর দিয়ে বলেছেন রাশিয়া কূটনৈতিক সমাধানে সত্যিই আগ্রহী। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া তার সামরিক লক্ষ্যগুলো চালিয়ে যাবে, বিশেষ করে যেখানে রুশ বাহিনী কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে। উশাকভ আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠক আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেন। তিনি বলেছেন, স্বীকার করতেই হবে মার্কিনিরা এ বৈঠকের জন্য অনেক কাজ করেছেন। তারা আশা করছে, এই বৈঠক সফল হবে এবং সংঘাতের অবসান ও শান্তিচুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয়ে অগ্রগতির পথ খুলে দেবে। ক্রেমলিনে রুশ-মার্কিন আলোচনায় রাশিয়ার পক্ষে অংশ নেন পুতিন, উশাকভ ও দিমিত্রিয়েভ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আলোচনা দুই দিন ধরে চলবে। তবে ট্রাম্পের ২৮ দফা শান্তি প্রস্তাবের নিজেদের কয়েকটি অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া শর্তের বিষয়ে বৈঠকের আগে থেকেই দ্বিমত জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি। এদিকে যুদ্ধ বন্ধের নিজ অবস্থানে স্থির আছে রাশিয়া। এএফপি জানিয়েছে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দনবাস অঞ্চল থেকে ইউক্রেন ও ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সরে যেতে হবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। তাদের সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতেই হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দূতদের প্রস্তাবিত ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনাটি গাজা যুদ্ধবিরতির ধাঁচে তৈরি, যার লক্ষ্য রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ বন্ধ করা। পরিকল্পনায় রাশিয়ার বহু দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা কিয়েভ বহুবার প্রত্যাখ্যান করেছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের ক্রিমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলকে কার্যত রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু পক্ষ। পরিকল্পনায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আকার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে ও ধীরে ধীরে মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে। গেল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি তেল টার্মিনালের পাশাপাশি ক্রিমিয়ার রাডার স্টেশনগুলোতে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ দাবি করেন, ওই হামলায় মস্কোর তেল ও অস্ত্র স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা দেশটির স্থানীয় প্রশাসনের। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের নেতাদের মধ্যে একটি অস্বাভাবিক ঘৃণা যুদ্ধের অবসানের পথে একটি বাধা হিসেবে থেকে গেছে, তবে একটি শান্তি চুক্তি ক্রমশ কাছাকাছি চলে এসেছে।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে রাশিয়া-ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র

