ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ অনেক নাটকিয়তার পর ফের বিএনপিতে ফিরলেন বির্তকিত মনিরুল ইসলাম সেন্টু ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর হাত ধরে দলে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন আলোচিত বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টু।২০১৮ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে দল থেকে বহিষ্কার হন সেন্টু। পরে তিনি আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন এবং দলটির প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীকে ইউপি নির্বাচনেও অংশ নেন। ওই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হন মনিরুল আলম সেন্টু।
সরকার পতনের পর বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছিলেন সেন্টু। গত বছরের জানুয়ারিতে দলে ফেরার জন্য আবেদনও জানান। এই আবেদনের এক বছর পর গত ১ জানুয়ারি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় দল। পরদিনই আবার সেই আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, কুতুবপুরে মনিরুল আলম সেন্টুর জনপ্রিয়তা ও প্রভাব অনেক। ফলে, বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থীর আসনটিতে সেন্টুকে প্রচারণায় প্রয়োজন হবে। এ কারণে জোট-প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর চেষ্টা-তদবিরে দলে ফিরতে পেরেছেন এ বিএনপি নেতা।
এমনকি সোমবার রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে আলাপ চালান মনির হোসাইন কাসেমী। তিনি তখন মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গটিও তোলেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
এর আগে কাসেমীর মাধ্যমে দলে ফেরেন জেলা বিএনপির সদস্য ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। গত বছরের ১৫ মে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির একটি ফোনালাপ ভাইরাল হবার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের সাতমাস পরে কাসেমীর অনুরোধে তাকে ফের দলে ফিরিয়ে নেয় বিএনপি।
এই তদবিরের ফল পাচ্ছেন কাসেমী নিজেও। জোটের প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই এই দুই বিএনপি নেতার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পাচ্ছেন তিনি।

