ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃরাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে দলটির ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল যমুনায় প্রবেশ করে।
সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছে; যাতে যেসব মনোনয়ন আইন অনুযায়ী বাতিল হওয়ার কথা, সেগুলো বাতিল না করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এ পর্যায়ে আমরা লক্ষ্য করছি, একই ধরনের মামলায় কোথাও কাউকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে, আবার কোথাও একই রকম ক্ষেত্রে মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে। মূলত দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বৈধ বা অবৈধ বিবেচনা করা হচ্ছেÑ একটি ঋণখেলাপি হওয়া এবং অন্যটি দ্বৈত নাগরিকত্ব। ঋণখেলাপির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একইভাবে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নেও প্রাথমিক যাচাইয়ে একই ধরনের পরিস্থিতিতে কোথাও মনোনয়ন বৈধ, আবার কোথাও অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে একটি দল চাপ প্রয়োগ করছে।
‘এ বিষয়ে আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই,কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে, যে দলেরই হোক, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও যদি হয়, তাহলে আরপিও অনুযায়ী বৈধ ও অবৈধ মনোনয়নের ফয়সালা করতে হবে। অন্যথায় দুটি বিষয় প্রমাণিত হবে, এই নির্বাচন কমিশন দুর্বল অথবা তারা একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও হতাশা তৈরি হবে।’
গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের প্রধানকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেছেন, এটি নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতি বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অন্য কাউকে বাড়তি নিরাপত্তা বা প্রটোকল দিলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রতিও সমান আচরণ করতে হবে। তা না হলে জাতি এই নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতমূলক আচরণের দায়ে অভিযুক্ত করবে এবং নির্বাচনী মাঠে সমতা বিনষ্ট হবে।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কিছু জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, যারা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের আচরণে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা আমরা লক্ষ্য করেছি বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা করেছি এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। আজ প্রধান উপদেষ্টাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে, যাতে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান।
ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যমেরা স্থাপনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন উল্লেখ করে জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি। আজ প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, গতকাল বা আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আমরা মত দিয়েছি, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সেনাবাহিনী, পুলিশ বা র্যাবের প্রবেশ অনুমোদন দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ এতে ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হতে পারে। তাদের দায়িত্ব হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, যা বুথের বাইরে থেকেই করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বাহিনীগুলো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করবে না।
প্রধান উপদেষ্টাকে কয়েক উপদেষ্টা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর থাকার কথা ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে কিছু বিচ্যুতি ঘটেছে। প্রধান উপদেষ্টা বিস্ময়ের সঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়গুলো আগেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা তাকে অনুরোধ করেছি, যারা এসব বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে। তিনি স্বীকার করেছেন যে অনেক তথ্য তার কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না। তাই আমরা তাকে আরও কার্যকর তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছি।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

