ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ সম্প্রতি রাজধানীর নাট্যমঞ্চে এসেছে গন্ধসূত্র শিরোনামের নতুন নাটক। প্রযোজনাটি মঞ্চে এনেছে নাট্যদল অবলোকন। অপু শহীদ রচিত নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন তৌফিকুল ইসলাম ইমন। শনিবার শীতল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে প্রযোজনাটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী হয়।
নিপীড়িত এক নারীর জীবনের গল্পকে ঘিরের আবর্তিত হয়েছে নাটকের কাহিনী। নিপীড়নের বদলা নিতে গিয়ে এই হঠাৎ করেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। এই ভয়ঙ্কর হওয়ার পেছনেও সুনির্দিষ্ট কারণ। তার ব্যক্তিগত অহং দলিত হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহযোগিতায়। নিজ ঘরে সে শনাক্ত করে সেই নির্যাতক ও নিপীড়ককে। সমাজের আইনের প্রতি সে আস্থা হারিয়ে ফেলে। সে মনে করে, দীর্ঘকাল চেপে বসা স্বৈরশাসনের অবসান হলেও এখনো হামাগুড়ি দিচ্ছে গণতন্ত্র।
প্রযোজনাটি প্রসঙ্গে নাট্যকার অপু শহীদ বলেন, সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েই এ নাটক।
সমকালের বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় জারিত এক দগদগে নাটক গন্ধসূত্র। বিশ্বের অর্থনীতি এখন সমাজ-রাজনীতি, উন্নয়ন-বিশ্বায়ন, যুদ্ধ-হিংস্রতায় এমন এক টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি করেছে, যেখানে ব্যক্তি মানুষের সুস্থ থাকা বেশ কৌতূহলপ্রদ। আধিপত্যবাদী চরিত্র পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছিল কিন্তু কিছুতেই একটা কাঠামোতে দাঁড় করানো যাচ্ছিল না। এই অস্থিরতার মধ্যে মনে পড়ে গেল আর্জেন্টাইন-আমেরিকান নাট্যকার অ্যারিয়েল ডর্ফম্যানের কথা। এই বিশ্বায়নের যুগে মূল ইংরেজি নাটক, পোলনস্কির ফিল্ম, এমনকি হিন্দি সিনেমাও পেয়ে গেলাম। পেয়ে গেলাম ডর্ফম্যানের আরও অনেক লেখার সন্ধান। নাটকের মূল ভরকেন্দ্র রাখলাম পোলনস্কির ‘ডেথ অ্যান্ড দ্য মেইডেন’ সিনেমার ওপর।
নির্দেশক তৌফিকুল ইসলাম ইমন বলেন, এই নাটকের সময়টা শুধু আমাদের রাষ্ট্রের নয়, বর্তমান বিশ্বের যেখানেই গণতন্ত্র ধসে পড়ছে সেখানকার বাস্তবতা। নাটকে নির্যাতিত এক নারী ব্যক্তিগত যন্ত্রণার বদলা নিতে চাইছে, এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে দুই পুরুষ চরিত্র নাটকীয় দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে। নাটকের শেষে এসে মেয়ে এবং আগন্তুক এক ভয়ানক ডিসকোর্সে পৌঁছায়। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক চরিত্রের বৈপরীত্যের কারণে সাধারণ নাগরিক একে অপরের শত্রু হয়ে দাড়ায়।
গন্ধসূত্র নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসরিন অনু, সরওয়ার জাহান উপল, তৌফিকুল ইসলাম ইমন, ডায়নাসহ অনেকে। সংগীত পরিকল্পনা করেছেন চার্লস নিলয় চৌধুরী। আলোক পরিকল্পনা করেছেন মোখলেছুর রহমান। পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন আইরিন পারভীন লোপা। সেট ডিজাইন করেছেন আবু বকর সিদ্দিকী।

