ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটি এখন মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ৬০ শতাংশ পূরণ করতে পারছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটিকেই ইউক্রেনের সবচেয়ে ঠান্ডা ও অন্ধকার শীত বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেছেন। খবর কিয়েভ টাইমসের।
জেলেনস্কি বলেছেন, গত শুক্রবার পর্যন্ত ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র ১১ গিগাওয়াট, যেখানে দেশের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ১৮ গিগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি নতুন করে শুরু হওয়া রুশ হামলা, তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং প্রায় চার বছর ধরে চলা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ফলে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড এখন চরম চাপের মুখে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কিয়েভ সরকার এ সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সংকট সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেনিস শ্মিহালকে নতুন জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্মিহাল জানিয়েছেন- রাজধানী কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা এবং সামনের সারির কাছাকাছি শহরগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। তীব্র শীতের মধ্যে শূন্যের নিচে তাপমাত্রায় হাজার হাজার পরিবার দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ও গরমের ব্যবস্থা ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে। পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, রুশ হামলার তীব্রতা প্রতিদিনই বাড়ছে। ইউক্রেনে এমন কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নেই, যেটি শত্রুর আঘাত থেকে রেহাই পেয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় শীতকালীন প্রস্তুতি ব্যর্থ হয়েছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই দিনে তিনি দেখেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ কার্যত স্থবির হয়ে আছে। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়িয়েছে। তবে সর্বোচ্চ আমদানি সক্ষমতা মাত্র ২.৩ গিগাওয়াট হওয়ায় এবং উচ্চমূল্যের কারণে অনেক সময় পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্মিহাল আরও বলেছেন- নাফটোগাজ, ইউক্রোবোরোনপ্রম এবং রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়ার মতো বড় কোম্পানিগুলোকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়াতে উৎসাহিত করা হবে।
ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

