ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃবিগত দেড় দশকের ভয়াবহ গুম, খুন ও অমানবিক নির্যাতনের পাহাড়সম চাপ সত্ত্বেও বিএনপির কর্মীরা কখনো আপস করেনি কিংবা কৌশলের নামে আত্মগোপনে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক আবেগঘন মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেড় লক্ষাধিক মিথ্যা মামলায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে অবর্ণনীয় কষ্ট সইতে হয়েছে। দিনের পর দিন ঘরবাড়ি ও স্বজনদের ছেড়ে ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে তাদের। কিন্তু শত প্রতিকূলতার মাঝেও বিএনপির কর্মীরা বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে; তারা কখনো ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই আপসহীন মানসিকতাই প্রমাণ করে যে, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার চালিয়ে এই দলকে দমন করা সম্ভব নয়।
আগামী দিনের গণতান্ত্রিক সরকারে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, গুম ও খুনের শিকার শহীদদের নাম ও স্মৃতি ধরে রাখতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন তাদের এই মহান আত্মত্যাগের কথা ভুলে না যায়, রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব নেবে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে থেকেও সাধ্যমতো নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।
সভায় নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা ও বিএনপির উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত প্রসঙ্গে কথা বলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে শান্তির স্বার্থে তারেক রহমানের কর্মসূচি স্থগিত করা বিএনপির দুর্বলতা নয়, বরং রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ভদ্রতা। তবে এই সুযোগে কোনো মহল যদি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় বা নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর কৌশল খোঁজে, তবে তা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
মতবিনিময় সভায় গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার করুণ স্মৃতি তুলে ধরেন। তারেক রহমান তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর অবসান ঘটেছে এবং দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

