ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ সাকিফ শামীম ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ল্যাবএইড গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্ত আছেন আরও ২৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। বিশেষায়িত হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিক্যাল কলেজ, ফার্মাসিউটিক্যালস, রিয়েল এস্টেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ১২,০০০-এরও বেশি কর্মচারী নিয়ে দেশের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা গ্রুপে পরিণত হয়েছে ল্যাবএইড গ্রুপ। ল্যাবএইড শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানই নয় এটি রূপান্তরের একটি মঞ্চ। সাকিফ শামীমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা।
তাঁর নেতৃত্বে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও এশিয়ার সেরা হাসপাতালগুলোর মধ্যে গণ্য হচ্ছে, যা রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে সমন্বিত ক্যান্সার পরিচর্যা প্রদান করছে। তিনি একজন অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশ্লেষক। সামগ্রিক অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন দৈনিক জনকণ্ঠের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার এম শাহজাহান
দৈনিক জনকণ্ঠ : ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল আজ স্বাস্থ্য খাতে একটি আস্থার নাম। শুরুতেই জানতে চাই একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আপনি নেতৃত্বকে কীভাবে দেখেন? সংকটের সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার দর্শন কী?
সাকিফ শামীম : আমি নেতৃত্বকে দেখি দায়িত্ব হিসেবে, ক্ষমতা হিসেবে নয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে নেতৃত্ব দেওয়া সরাসরি মানুষের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কোভিড-পরবর্তী সময়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও স্থানীয় স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ আমাদের শিখিয়েছে যে সংকটের সময়ে ডেটা-ড্রিভেন ডিসিশন, স্বচ্ছতা এবং মানবিকতাÑ এই তিনটি একসঙ্গে না থাকলে নেতৃত্ব টেকসই হয় না। সংকটের সময়ে আমার দর্শন হলো ‘অ্যাম্প্যাথিটিক রেজিলিয়েন্স’ বা সহানুভূতিশীল সহনশীলতা।
সংকটকালে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিই : দ্রুততা, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত বুদ্ধিবৃত্তি। আমি বিশ্বাস করি, একা কোনো বড় যুদ্ধ জেতা যায় না। তাই সংকটে আমি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিই, কারণ তারাই সরাসরি সেবার সঙ্গে যুক্ত। আমার দর্শন হলোÑ কঠিন সময়ে সিদ্ধান্ত হবে মস্তিষ্ক দিয়ে, কিন্তু তার প্রয়োগ হবে হৃদয় দিয়ে। কারণ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই একটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে মানবিকতা নেতৃত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দৈনিক জনকণ্ঠ : আপনি নিয়মিত অর্থনীতি নিয়ে লেখালেখি করছেন এবং টেলিভিশনে মতামত দিচ্ছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী? এগুলো মোকাবিলায় করণীয় কী বলে মনে করেন?
সাকিফ শামীম : বর্তমানে আমাদের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা আমদানিনির্ভর ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার অদক্ষতাও বাজার ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের উৎপাদনশীল খাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে।
শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে ওষুধ, আইটি এবং হালকা প্রকৌশল খাতের রপ্তানি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও উৎসাহব্যঞ্জক করতে হবে। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে আস্থার সংকট। বিনিয়োগ শুধু অর্থের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না, এটি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।
দৈনিক জনকণ্ঠ : আপনি এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে, এমনকি জামানতবিহীন ঋণের কথা বলেন। বাস্তবতায় এসএমই খাতে কত শতাংশ সুদ যুক্তিসংগত? সিঙ্গেল ডিজিট সুদের দাবিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
সাকিফ শামীম : এসএমই খাত নিয়ে আমাদের প্রচলিত ধারার বাইরে এসে ভাবতে হবে। বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু সুদের হার নয়, বরং ঋণের ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ বা সহজলভ্যতা। আমাদের দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যাংকিং জটিলতা ও নথিপত্রের পাহাড় ডিঙিয়ে ঋণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। আমার মতে, এসএমই খাতের জন্য একটি ‘ডেডিকেটেড ডিজিটাল লেন্ডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে ক্রেডিট স্কোরিং হবে ব্যবসার পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে, শুধু স্থাবর সম্পত্তির ওপর নয়। জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি স্কিমগুলো আরও তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
দৈনিক জনকণ্ঠ : বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ কতটা জরুরি? একজন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
সাকিফ শামীম : বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য কেবল অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন একটি আস্থাশীল আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো। একজন বিনিয়োগকারী যখন দেখেন যে তার বিনিয়োগের নিরাপত্তা আছে এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, তখনই তিনি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান তৈরির সাহস পান। বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন সূচক এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা বারবার দেখিয়েছে যে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো তুলনামূলকভাবে জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
একটি শিল্প বা প্রকল্প বাস্তবায়নে বহু সংস্থার অনুমোদন, দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা বিনিয়োগকারীদের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতি হয় না, বরং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়। বাস্তবতা হলোÑ বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত সুবিধা বা বিশেষ অনুকম্পা চান না : তারা চান একটি স্পষ্ট নিয়ম-কানুন, যার ভিত্তিতে তারা আগাম পরিকল্পনা করতে পারেন এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারেন। আমাদের দেশে ব্যবসা শুরুর ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো খুব জরুরি। ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে কার্যকর করার পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে হবে।
দৈনিক জনকণ্ঠ : এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে। আপনি কি মনে করেন এটি পিছিয়ে দেওয়া উচিত?
সাকিফ শামীম : এলডিসি উত্তরণ আমাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি এটি কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও নিয়ে আসবে। গ্র্যাজুয়েশনের পর আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান বিশেষ শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড বেনিফিটগুলো হারাবো। এটি আমাদের রপ্তানি সক্ষমতাকে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে। তবে এটিকে আমি সুযোগ হিসেবে দেখছি। এখন থেকেই আমাদের বিভিন্ন দেশের সাথে পিটিএ (চঞঅ) বা এফটিএ (ঋঞঅ) চুক্তির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে আমাদের বিশ্ববাজারের মূল ধারায় প্রবেশ করতে হবে।
দৈনিক জনকণ্ঠ : স্বাস্থ্য খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আপনি মনে করেন?
সাকিফ শামীম : চডঈ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে এআই ব্যবহারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ভ্যালু অ্যাড হবে। ক্যান্সার ডায়াগনস্টিকসে এআই ব্যবহারে রোগ শনাক্তকরণ আরও দ্রুত ও নির্ভুল হচ্ছে। একই সঙ্গে পেশেন্ট ডেটা ম্যানেজমেন্ট, টেলিমেডিসিন ও হাসপাতাল অপারেশনেও এআই কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে এআই বলতে-দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, ক্যান্সার ডায়াগনস্টিকসে নির্ভুলতা, পেশেন্ট ডেটা ম্যানেজমেন্ট এবং টেলিমেডিসিনের সম্প্রসারণ। ল্যাবএইডে আমরা ইতোমধ্যে ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড, টেলিমেডিসিন ও ডেটা অ্যানালিটিক্সে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছি।
দৈনিক জনকণ্ঠ : ল্যাবএইড গ্রুপ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
সাকিফ শামীম : ল্যাবএইড গ্রুপকে আমি আগামী দিনে কেবল একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই হেলথকেয়ার ইকোসিস্টেম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই- যেখানে প্রতিরোধ, চিকিৎসা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একসূত্রে যুক্ত থাকবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ৩০টি স্যাটেলাইট ক্যান্সার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
দৈনিক জনকণ্ঠ : এফবিসিসিআইতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হলে আপনার পরিকল্পনা কী?
সাকিফ শামীম : এফবিসিসিআই বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই প্ল্যাটফর্মটির সক্ষমতা যতটা হওয়া দরকার, ততটা কাজে আসছে না-বিশেষ করে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায়। আমি মনে করি, এফবিসিসিআইকে কেবল একটি ইভেন্ট বা বক্তব্যকেন্দ্রিক সংগঠন না রেখে এটিকে একটি শক্তিশালী পলিসি অ্যাডভোকেসি ইনস্টিটিউশনে রূপান্তর করা জরুরি। এফবিসিসিআইকে আরও ইনক্লুসিভ করা, যেখানে এসএমই, তরুণ উদ্যোক্তা, নতুন শিল্পখাত এবং আঞ্চলিক ব্যবসায়ীরাও সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব পাবে। বর্তমানে দেশের মোট ব্যবসার প্রায় ৯০ শতাংশ এসএমইনির্ভর হলেও তাদের কণ্ঠ এফবিসিসিআইতে তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
এই বৈষম্য দূর করাই আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ছাড়া আমি চাই এফবিসিসিআই নিয়মিত রিসার্চভিত্তিক পলিসি পেপার প্রকাশ করুক, যাতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ব্যবসায়ীদের দাবি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়। একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়তে হলে ব্যবসায়ী সংগঠনকেও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী হতে হবেÑ আমাদের ভিশন ঠিক সেখানেই। আমি এফবিসিসিআইকে একটি ওয়ান স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এফবিসিসিআইকে সকল সমস্যা সমাধানের একটি বিশ্বাসযোগ্য হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেখানে ব্যবসায়ীদের সকল সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি ব্যবসা সংক্রান্ত যে কোনো সহযোগিতাও প্রদান করা হবে।
দৈনিক জনকণ্ঠ : জেলা চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন উন্নয়নে এফবিসিসিআই কী ভূমিকা রাখতে পারে?
সাকিফ শামীম : একটি দেশের অর্থনীতি কখনোই রাজধানীকেন্দ্রিকভাবে টেকসই হতে পারে না। জেলা চেম্বার এবং খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনগুলোই আসলে গ্রাসরুট লেভেলে অর্থনীতিকে চালিত করে। এফবিসিসিআইয়ের উচিত জেলা চেম্বারগুলোর জন্য একটি ‘ডিজিটাল রিসোর্স সেন্টার’ তৈরি করা। প্রত্যেক জেলার নিজস্ব সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাগুলোকে ব্র্যান্ডিং করার উদ্যোগ নেয়া উচিত। জেলা পর্যায়ে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরিতে এফবিসিসিআই নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন শেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জেলা চেম্বারগুলোকে শুধু নামমাত্র সদস্য না রেখে তাদের সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
দৈনিক জনকণ্ঠ : এবার আমরা ল্যাবএইড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। শুরুতেই আমরা যেমন বলছিলাম ল্যাবএইড স্বাস্থ্যসেবায় একটি বিশ্বস্ত নাম। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করছে ল্যাবএইড। এটা কিভাবে সম্ভব হলো? ল্যাবএইডের সেই সফলতার গল্প আমরা পাঠকদের জানাতে চাই। যদি বিস্তারিত জানান।
সাকিফ শামীম : ল্যাবএইড দেশের লাখো মানুষের আবেগ, আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় ল্যাবএইড যেভাবে একটি বিশ্বস্ত নাম হয়ে উঠেছে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতা, সঠিক সময়ে সাহসী সিদ্ধান্ত এবং মানুষের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা। ল্যাবএইডের পথচলা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা চিকিৎসক ডা. এ এম শামীমের হাত ধরে। তাঁর স্বপ্ন ছিলÑ বাংলাদেশের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হয়, বরং দেশেই পায় আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা। সেই স্বপ্ন থেকেই গড়ে ওঠে ল্যাবএইড।

