ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ কাঁটাতারের বেষ্টনীতে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর সেই নিথর লাশের ছবি আজও দেশবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। ঠিক ১৫ বছর পর সেই বিষাদমাখা স্মৃতির বুক চিরে এক নতুন আশার আলো জ্বলে উঠল। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন নবীন সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি)। বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিজিবির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ’-এ ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এই ব্যাচেই দীর্ঘ চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে সৈনিক হিসেবে শপথ নেন আরফান হোসেন। ফেলানী হত্যার পর থেকেই তাঁর মা-বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় হয়ে বিজিবিতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করবে। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আরফানের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু আর হৃদয়ে ছিল প্রতিজ্ঞার দৃঢ়তা।
শপথ গ্রহণ শেষে গণমাধ্যমের সামনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আরফান। তিনি বলেন, যেভাবে তাঁর বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই করুণ স্মৃতি তাঁকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। আরফান দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, আমি বিজিবিতে যোগ দিয়েছি যাতে আমার বোনের মতো আর কোনো বোনকে সীমান্তে গুলি খেয়ে মরতে না হয়। কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়, দেশের সীমানা পাহারা দিয়ে সেটাই নিশ্চিত করতে চাই।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারায় কিশোরী ফেলানী। দীর্ঘক্ষণ কাঁটাতারে ঝুলে থাকা তাঁর সেই মৃতদেহ সীমান্তে অন্যায্য হত্যাকাণ্ডের বৈশ্বিক প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে ঢাকার গুলশান কূটনৈতিক এলাকার প্রধান সড়কের একটি অংশের নামকরণ করেছে ‘ফেলানী এভিনিউ’। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতির পর আরফানের বিজিবিতে যোগদান সীমান্ত হত্যা বন্ধের আন্দোলনে এক নতুন মাত্র যোগ করল।

