ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ রুবেন আমোরিম অধ্যায় শেষ হওয়ার পর ওল্ড ট্রাফোর্ডের ডাগআউটে কে বসবেন, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে ধোঁয়াশা কাটল। ঘরের ছেলে মাইকেল ক্যারিকের সঙ্গেই সমঝোতায় পৌঁছেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করবেন ৪৪ বছর বয়সী সাবেক মিডফিল্ডার।
মাঝে শোনা যাচ্ছিল, ওল্ড ট্রাফোর্ডে হয়তো কোচ হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করবেন ওলে গুনার সুলশার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নরওয়েজীয় এই কিংবদন্তিকে নয়, ইউনাইটেড কোচের দায়িত্ব দিয়েছে ক্যারিককে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শনিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে হাই ভোল্টেজ ডার্বিতেই ডাগআউটে দেখা যাবে তাঁকে।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারিকের সঙ্গে ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের এরই মধ্যে একটি নীতিগত চুক্তি হয়ে গেছে। চুক্তি অনুযায়ী ক্যারিক তাঁর পছন্দমতো কোচিং স্টাফ নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এখন শুধু চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত হওয়া বাকি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আত্মবিশ্বাসী যে ম্যান সিটির বিপক্ষে বড় ম্যাচের আগেই আনুষ্ঠানিক সব প্রক্রিয়া শেষ হবে।
আমোরিমকে ৫ জানুয়ারি বরখাস্ত করার পর থেকেই ওল্ড ট্রাফোর্ডে নতুন নেতার খোঁজ চলছিল। ক্লাবের প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা ও ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স বেশ কয়েকজন কোচের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। শেষ পর্যন্ত ক্লাবের মালিক প্রতিষ্ঠান আইএনইওএসের প্রধান স্যার জিম র্যাটক্লিফ ক্যারিকের ব্যাপারেই সবুজসংকেত দেন। আমোরিম যাওয়ার পর ড্যারেন ফ্লেচার অনূর্ধ্ব-১৮ দল থেকে এসে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, এখন তাঁর হাত থেকে ব্যাটন বুঝে নেবেন ক্যারিক।
ইউনাইটেডের খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিকের ক্যারিয়ার বেশ উজ্জ্বল। দীর্ঘ ১২ বছরে রেড ডেভিলদের জার্সিতে তিনি ৪৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন। জিতেছেন পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। কোচিংয়েও তিনি একেবারেই নতুন নন। জোসে মরিনিও ও সুলশারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে সুলশার বিদায় নেওয়ার পর তিনি তিনটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যার দুটিতেই জিতেছিল ইউনাইটেড। এরপর মিডলসবরোকে কোচিং করিয়েও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
সাবেক সতীর্থদেরও সমর্থন পাচ্ছেন ক্যারিক। সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমি ক্যারিককে কোচ হিসেবে বেশ পছন্দ করি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান ক্লাবকে সাহায্য করবে।’ এমনকি কিংবদন্তি ওয়েইন রুনিও জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে সাবেক সতীর্থ ক্যারিকের সঙ্গে কাজ করতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
ক্যারিক দায়িত্ব নিচ্ছেন ইউনাইটেডের বেশ টালমাটাল অবস্থায়। ড্যারেন ফ্লেচারের অধীনে সর্বশেষ দুই ম্যাচে দল আশানুরূপ ফল পায়নি। রেলিগেশনের শঙ্কায় থাকা বার্নলির সঙ্গে ড্র করার পর এফএ কাপে ব্রাইটনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা। ১১১ বছরের মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে বাজে সময় পার করছে ক্লাবটি।
অভিষেক ম্যাচেই প্রতিপক্ষ পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। এরপর ২৫ জানুয়ারি খেলতে হবে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের বিপক্ষে। লিগে বর্তমানে সপ্তম স্থানে থাকা ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়নস লিগের জায়গা থেকেও আপাতত ৩ পয়েন্ট দূরে।
ইউনাইটেড কি ক্যারিকের হাত ধরেই কক্ষপথে ফিরবে? উত্তরটা সময়ই দেবে।

