ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই সভায় বিসিবি তাদের আগের অবস্থানে অনড় থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে উভয় পক্ষই সংকট সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আইসিসিকে স্পষ্টভাবে জানান, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে তারা ভারতে ভ্রমণে আগ্রহী নন। বিসিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে আইসিসি জানায় যে, সূচি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় তা পরিবর্তন করা কঠিন। আইসিসি বিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না।
আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে বিসিবিকে পাঠানো একটি চিঠিতে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পুরো টুর্নামেন্টের ঝুঁকি ‘মাঝারি’ বলা হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ‘মাঝারি থেকে উচ্চ’ মাত্রার বলে চিহ্নিত করা হয়। এই ঝুঁকির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ দেখানো হয়েছে— ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা। এই মূল্যায়নের পর বিসিবির উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কট্টরপন্থী সংগঠনের চাপের মুখে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ ছাড়াই মুস্তাফিজকে সরিয়ে দেওয়ায় বিসিবি ধারণা করছে, পুরো দলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কলকাতায় বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ খেলার কথা থাকায় সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার কথা থাকলেও বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু নিয়ে এই অনিশ্চয়তা টুর্নামেন্টের সফলতায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিবি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, সাপোর্ট স্টাফ ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য।

