ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবকে নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া একটি উদীয়মান শক্তিশালী সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন জোর গুঞ্জন চলছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে, এই সামরিক অংশীদারিত্ব তারই একটি বড় প্রতিফলন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সামরিক জোটের মূল ভিত্তি মূলত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ মানেই তা জোটের অন্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাটোর অন্যতম প্রধান শক্তি তুরস্কও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করেছে। এখন বাংলাদেশ যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়, তবে সৌদি আরবের অর্থশক্তি এবং পাকিস্তান ও তুরস্কের বিশাল সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়ে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে একটি অপরাজেয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি হবে।
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের এই ‘সৌদি-মডেল’ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে। গত এক বছরে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক এবং সফর বহুগুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরকালে অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান দ্রুততম সময়ে ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই জোটের মাধ্যমে কেবল সরঞ্জাম কেনা নয়, বরং সামরিক গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ সামরিক মহড়ার মতো ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
যদিও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার খসড়া অনেক দূর এগিয়েছে, তবে এর চূড়ান্ত অনুমোদন নির্ভর করছে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের ওপর। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় এই জোটকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে পরবর্তী সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
টাইমস অফ ইসলামাবাদের বরাত দিয়ে আসা এই তথ্য যদি সত্যি হয়, তবে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের এই চতুর্মুখী জোট দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আমূল বদলে দিতে পারে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসলামাবাদ

