ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে এক সহকারী অধ্যাপককে প্রকাশ্য দিবালোকে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আইন অনুষদ কেন্দ্রের সামনে চাকসুর চার নেতার নেতৃত্বে এই মব জাস্টিসের ঘটনা ঘটে, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং সাবেক সহকারী প্রক্টর ছিলেন।
বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদকে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর ধাওয়া করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকসুর চার নেতার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিক্ষক চিৎকার করা সত্ত্বেও তাকে পেছন থেকে চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ জানান, পরীক্ষার হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত অনুভব করে তিনি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় একদল শিক্ষার্থী মব তৈরি করে তাকে আক্রমণ করে। অন্যদিকে, চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নে এই শিক্ষকের ভূমিকা ছিল। তাদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক কীভাবে ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন তা জানতে ডিনের কাছে যাওয়ার সময় ওই শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করে আঘাত পান। তবে হাসান মোহাম্মদ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ভুক্তভোগী শিক্ষককে প্রক্টর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে তল্লাশি চালানো হয়। প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, তারা সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন যে, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলায় তার বেতন বন্ধ রয়েছে, কিন্তু কীভাবে তিনি পরীক্ষার ডিউটি পেলেন তা তার জানা নেই। ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অবশ্য জানিয়েছেন, বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত একজন শিক্ষকের দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা নেই।
এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাকে এভাবে জনসমক্ষে হেনস্তা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

