ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে আলোচিত সমালোচিত ব্যাক্তিদের মধ্যে অন্যতম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। এই বিতর্কিত নেতা নানা সময় নানা বিতর্কের মাধ্যমে ফ্রন্ট লাইনে চলে আসে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভাই সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য আবুল কালামের পাশে না থেকে অন্য প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে নতুন বিতর্কের জম্মদিয়ে ছিলেন আতাউর রহমান মুকুল ।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয় শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে এ মনোনয়ন মেনে না নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বাকী প্রার্থীরা তাদের মধ্যে অন্যতম তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. শাখাওয়াত হোসেন খান, আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল,মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ মহানগর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সে সময় মহানগর বিএনপির উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি পালন করলেও একটি কর্মসূচিতে আতাউর রহমান মুকুলকে দেখা যায়নি। সে সময় তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেছিলেন ভাইয়ের দুঃসময়ে পাঁশে নেই আতাউর রহমান মুকুল। ভাই আবুল কালামের পাশে না থেকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ কে সমর্থন দিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন আতউর রহমান মুকুল।
বহু নাটকিয়তার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল কালামকে।এর পর থেকেই অনেকটাই আত্মগোপন চলে গেছেন আতাউর রহমান মুকুল। অপেক্ষায় আছে তাকে কখন ডাঁকবেন ভাই আবুল কালাম এবং ভাতিজা আবুল কাউসার আশা। তাদের ম্যানেজ করে কাজ করার সুযোগ খুজঁছেন বিতর্কিত এ নেতা।
আতাউর রহমান মুকুলের অতীতের ইতিহাস অনেকটাই খারাপ । বিএনপি যখন নির্বাচন বর্জন করে অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে, তখন আতাউর রহমান মুকুল তার অনুগত কর্মী সমর্থক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং ওসমান পরিবারের সদস্যদের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম ও প্রচারণায় সহযোগিতা করেছেন। এ অভিযোগে তাকে ২০২৩ সালের (৩০ ডিসেম্বর) দলের সদস্য সহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়ে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী মাসুদুজাম্মানারে সহযোগিতায় ২০২৫ সালের (১৯ নভেম্বর) আতাউর রহমান মুকুলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফেরান হাইকমান্ড।
এ ছাড়াও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে লাঙ্গল মার্কার এজেন্টদের সার্পোট দিয়েছেন। যার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে পুরো দমে পঁচে গিয়েছিলেন এই মুকুল তারপর থেকেই এই মুকলকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নামে বলা হত সেলিম ওসমানের চামচা মুকুল।
আতা্উর রহমান মুকুল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালামকে নিয়ে বিরল মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সালাম কিয়ের নেতা, তারে দুই আনা দিয়েও দাম দেই না। তারে দুই আনা দিয়ে গুনায় ধরিনা। ওয়ে মুন্সিগঞ্জের কিয়ের নেতা, ওরে দায়িত্ব দিছে এখন চুরি কইরা ধান্দাবাজি কইরা খাইতাছে, ও কেন্দ্রের কিয়ের নেতা, আমরা জনগণের নেতা। সালামকে নারায়ণগঞ্জ অবাঞ্চিত ঘোষণা করলাম। এই সালাম যদি নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে তাহলে চামড়া তুলে নিবো। তার পরে এই বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির একাংশ নেতাকর্মী মিছিল মিটিং ও করেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতায় না থাকার কারণে ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বর্তমান সরকারের দমন-পীড়নে বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীগণ যেভাবে হয়রানি নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা ছিল।

