ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং আমেরিকার ভিসা বন্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
ভারতের কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। বুধবার থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে সরকারি অবস্থান পরিষ্কার করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান যে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে ভারতীয়দের জন্য ভিসা বন্ধ বা স্থগিত করার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। তবে ভারতের যেসব বাংলাদেশি মিশনে সম্প্রতি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ভিসা সেকশন বন্ধ রাখা হয়েছে। মূলত ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লি এবং ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির ভিসা সেন্টারে হামলার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেবল বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থান ভিসা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রদান করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি বা ‘ভিসা বন্ড’ আরোপের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান যে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বা সোশ্যাল সিস্টেম থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণকারীদের তালিকায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা অত্যধিক। এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের ওপর ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত বা ভিসা বন্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তৌহিদ হোসেন আরও উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের অবৈধ অভিবাসন বা অনিয়মিতভাবে বসবাসের দায়ভার পূর্ববর্তী সব সরকারের ওপর বর্তায়। এটি দীর্ঘদিনের একটি পুঞ্জীভূত সমস্যা যা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে কেবল বাংলাদেশি মিশনগুলোই নয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদান কার্যক্রম সীমিত করেছে। এই পাল্টাপাল্টি পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ভিসা সেবা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

