ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কাজ করেছে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিশ্চিত করেছে যে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করায় পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
ডিবি প্রধানের তথ্যমতে, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমান সময়ের এক আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় কঠোর সমালোচনা করতেন। তাঁর এসব জোরালো বক্তব্য ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা ছিলেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তাঁর নির্দেশে গুলি চালিয়েছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হামলার পর ঘাতকদের পালিয়ে যেতেও সহায়তা করেন বাপ্পি।
হামলার তারিখ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৬, দুপুর।
স্থান: রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকা।
বিবরণ: মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।
প্রথমে ঢামেক ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
ডিবি প্রধান জানান, রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এই মামলায় ইতিপূর্বে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজে তীব্র সমালোচনা চলছে। ডিবির এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

