ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিবিষে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে নীল করে জয়ে ফিরল সিলেট টাইটান্স। সোমবার সিলেটে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দিনের প্রথম ম্যাচে নবাগত নোয়াখালীকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজের সিলেট। ১৪.২ ওভারে মাত্র ৬১ রানে গুটিয়ে গেছে নোয়াখালীর ইনিংস। চলতি আসরে প্রথম বোলার হিসেবে ৫ উইকেট শিকারের পথে সর্বোপরি বিপিএলে স্পিনার হিসেবে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন নাসুম। ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৭ রান। জবাবে ৮.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক সিলেট।
টানা দুই হারের পর টাইটান্সের এটি তৃতীয় জয়। অন্যদিকে চার ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের দেখা পায়নি এক্সপ্রেস। এদিকে মুস্তাফিজ আইপিএল থেকে বাদ পড়ায় বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত তোলপাড় পরিস্থিতিতে টাইগার পেসারের মনের অবস্থা জানিয়েছেন তার দল রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। আগেরদিন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৫ রানের নাটকীয় জয়ে শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করেন ফিজ।
৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন নাসুম। ১৪৭ ম্যাচের ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিনি পেলেন ৫ উইকেটের স্বাদ। এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত সেরা বোলিং এটি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এবার ৫ উইকেট শিকারি প্রথম বোলারও তিনিই। বিপিএলের সব আসর মিলিয়েও একটি রেকর্ড গড়েছেন বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া বাঁহাতি এই স্পিনার। স্পিন বোলিংয়ে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি এটিই। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে পেস-স্পিন মিলিয়েই এত কম রানে ৫ উইকেট নেই আর কোনো কারও। বিদেশি বোলারদের মধ্যে তার চেয়ে কম রানে ৫ উইকেট আছে শুধু পাকিস্তানের মোহাম্মাদ সামির (৬ রানে ৫ উইকেট, ২০১২ সালে)।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের অধিনায়ক হায়দার আলী। নাসুমের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে ১৪.১ ওভারে ৬১ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। ইনিংস সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম ৪ ওভারে ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। সৌম্য সরকার, হায়দার আলী, মেহেদী হাসান রানা, জহির খান, বিলাল সামিÑএই পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিয়েছেন নাসুম। যাঁদের মধ্যে রানা, জহির ও সামিকে ১৩তম ওভারে ফিরিয়েছেন নাসুম। তবে হ্যাটট্রিকটা হয়নি বাংলাদেশের এই তরুণ বাঁহাতি স্পিনারের। ৬২ রানের লক্ষ্যে নেমে দলীয় ১ রানেই ভেঙে যায় সিলেট টাইটান্সের উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ছন্দে থাকা সিলেটের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে (১) বোল্ড করেন বিলাল সামি। তবে লক্ষ্য যখন ৬২ রান, তখন আর কিসের চাপ!
দ্বিতীয় উইকেটে ৩১ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তৌফিক খান ও জাকির হাসান। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে তৌফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জহির খান। ১৮ বলে ৭ চারে ৩২ রান করে তৌফিক বিদায় নেওয়ার পর ছোটখাটো ধস নামে সিলেটের ইনিংসে। ৬.৩ ওভারে ২ উইকেটে ৫৪ রান থেকে মুহূর্তেই ৮.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ৬১ রানে পরিণত হয় মিরাজের নেতৃত্বাধীন সিলেট। তাতে অবশ্য মিরাজদের জয় নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় তৈরি হয়নি। নবম ওভারের পঞ্চম বলে জহির খান ওয়াইড দিলে সেখানেই নিশ্চিত হয়ে যায় সিলেটের জয়।
আগেরদিন রাতে ঢাকার বিপক্ষে ৫ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর রংপুরের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দলটির অধিনায়ক সোহান। আইপিএলে এত বড় ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশে তোলপাড়, মুস্তাফিজের এখন কী অবস্থা, সেই প্রশ্নের উত্তরে সোহান বলেন, ‘সে বিন্দাস। একই সঙ্গে (আইপিএল ইস্যু) খারাপ লাগতেই পারে। তার যেটা প্রাপ্য, সেটা আরও আগে বেশি করে পাওয়া উচিত ছিল। তবে আমার কাছে মনে হয় সে ভালোই আছে।’

