ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ পার্থিব জীবন স্থায়ী নয়; তবে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে স্বস্তি ও স্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবনের নানা দুশ্চিন্তা ও জীবিকার চাপ অনেক সময় মানুষকে ইবাদতে মনোযোগী হতে বাধা দেয়, এমনকি আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। এ কারণেই কোরআন ও হাদিসে জীবিকা বৃদ্ধি, বরকত লাভ এবং অভাব দূর করার জন্য বিভিন্ন দোয়া ও আমলের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত জীবিকা বৃদ্ধির ১০টি আমল
১. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি
জীবিকায় প্রশস্ততা ও বরকতের অন্যতম চাবিকাঠি হলো আল্লাহভীতি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’
(সুরা তালাক: ২–৩)
আরও বলা হয়েছে, ‘যদি জনপদের লোকেরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর কল্যাণ খুলে দিতাম।’
(সুরা আরাফ: ৯৬)
২. তাওবা করা
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। পাপ জীবিকাকে সংকুচিত করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা তার পাপের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।’
(মুসতাদরাকে হাকিম: ৬১৬৭)
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তারপর তাঁর দিকে ফিরে আসো—তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তি বাড়িয়ে দেবেন।’
(সুরা হুদ: ৫২)
ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, তাওবার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় এবং জীবনের জটিলতা সহজ হয়ে যায়।
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং মৃত্যুর পর সুনাম থাকুক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’
(সহিহ বুখারি: ২০৬৭)
৪. আল্লাহর পথে ব্যয় করা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেবেন।’
(সুরা সাবা: ৩৯)
হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘হে আদম সন্তান! তুমি ব্যয় করো, আমি তোমাকে দান করব।’
(সহিহ বুখারি: ৫৩৫২)
৫. দুর্বল ও অসহায়দের সাহায্য করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা দুর্বলদের কারণে রিজিক ও সাহায্য লাভ করো।’
(সুনানে নাসায়ি: ৩১৭৯)
৬. মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে ইবাদত করা
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি যদি আমার ইবাদতে মনোযোগী হও, আমি তোমার অভাব দূর করে দেব।’
(সুনানে তিরমিজি: ২৪৬৬)
৭. কৃতজ্ঞতা আদায় করা
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও দেব।’
(সুরা ইবরাহিম: ৭)
৮. বিয়ে করা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা দরিদ্র হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন।’
(সুরা নুর: ৩২)
৯. হজ ও ওমরাহ পালন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হজ ও ওমরাহ দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে।’
(সুনানে নাসায়ি: ২৬৩০)
১০. জীবিকার জন্য চেষ্টা ও পরিশ্রম করা
আল্লাহ বলেন, ‘নামাজ শেষ হলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো।’
(সুরা জুমা: ১০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম কিছু নেই।’
(সহিহ বুখারি: ২০৭২)
আল্লাহ তাআলা সবাইকে হালাল, প্রশস্ত ও বরকতময় জীবিকা দান করুন। আমিন।

