ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ শুরুটা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছিল জাতীয় কবিতা উৎসব। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খল মুক্তির ডাক দেওয়া এ উৎসব পরবর্তীতে সরব থেকেছে সমাজ, রাষ্ট্রসহ নানামুখী বৈশ্বিক সংকটে।
সাম্প্রদায়িকতামুক্ত ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন মর্মবাণীকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কবিদের দ্রোহের প্রতীকী এ উৎসব। সেই স্রোতধারায় এবার সংস্কৃতিবিরোধী আগ্রাসন প্রতিরোধের প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী উৎসব।
জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত ৩৮তম উৎসবের প্রতিপাদ্য ‘সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দিবে কবিতা’। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন জুলাইযোদ্ধা শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি উপদেষ্ট মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। দুই দিনের এ উৎসবে অংশ নেবেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কবি, লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিককর্মী, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকরা। উৎসবের দু’দিনই থাকবে সেমিনার, কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় উৎসবের আয়োজক সংগঠন জাতীয় কবিতা পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, সূচনা বক্তৃতা করেন সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক কবি মানব সুরত, পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কবি মতিন বৈরাগী, পরিষদের সহ-সভাপতি কবি অনামিকা হক লিলি, শাহাবুদ্দীন নাগরী, কবি এবিএম সোহেল রশিদ, কবি গোলাম শফিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি শ্যামল জাকারিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক কবি নুরুন্নবী সোহেল, অর্থ সম্পাদক কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ, নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য কবি আসাদ কাজল, কবি শাহীন চৌধুরী প্রমুখ।
সূচনা বক্তব্যে রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, সতেরো বছরের অন্ধকার দূরীভূত করে সংস্কৃতি বিরোধী আস্ফালন রুখে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় কবিতা পরিষদ।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কবি হাসান হাফিজ বলেন, জাতীয় কবিতা পরিষদ সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। সেই স্রোতধারায় কবিতা পরিষদ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সব সময় লড়ে যাবে। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না।
কবি মতিন বৈরাগী বলেন, শিল্প কেবল মাত্র শিল্পের জন্য নয়, দেশমাতৃকার জন্য ও সমভাবে উপস্থাপিত হতে হবে। এটা জাতীয় কবিতা পরিষদ মনে করে।
কবি অনামিকা হক লিলি বলেন, কবি ও কবিতার ছন্দময় বিস্ফোরণই কবিতা। শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার মর্মবাণী খুব সহজেই পৌঁছে যায় দেশ থেকে দেশান্তরে। কবিতা অবশ্যই দূর করবে সব অন্ধকার।
কবি শাহীন চৌধুরী বলেন, জাতীয় কবিতা উৎসবকে আন্তর্জাতিকায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনিবার্য।
মোহন রায়হান বলেন, এ উৎসব শুধু কবিতাপাঠের মঞ্চ নয়, এটি বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত সংগ্রাম। বিগত চার দশকে কবিতা উৎসব দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সুখ্যাতি অর্জন করেছে। এ উৎসবে দেশের নানা প্রান্তের কবি, লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি বিদেশের অনেক খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিক অংশগ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে এ উৎসব একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধে প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, গত ১৭ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পরাজিত, খুনি, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী ও অন্ধকারের অশুভ শক্তি এবং জুলাইয়ের পতিত ফ্যাসিস্টদের দোসররা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এক ভয়াবহ ভীতির সংস্কৃতি চালু করেছে। দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছর জাতীয় কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ়কণ্ঠে জানাতে চাই, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ কখনোই এ পরাজিত দানবদের হাতে তুলে দিতে দেব না।
এদিকে, ‘জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬’ উদযাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সুইমিংপুল চত্বরে কবিতা উৎসবের দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি কবিদের উৎসবে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে নিবন্ধন করার জন্য দপ্তরটি প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
নিবন্ধনের জন্য এবার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। রবিবার থেকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও দুইটি কবিতার দুই কপি করে জমা দিতে হবে। এই লিংকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে : https://npcbd.com/utsob26 অথবা https:// jatiyokobitaparishad. com/utsob26|
দুই দিনের জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

