ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি ও নারী আন্দোলনের অগ্রসেনানী বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানমের ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার আয়োজনে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার ৪ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি ও নারী আন্দোলনের অগ্রসেনানী বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানমের ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে স্মরণ সভা সংগঠন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মিতা শর্মার কন্ঠে “ভরা থাক স্মৃতি সুধায়” এবং “এখনি যেও না” এই দুটি সংগীত পরিবেশন ও পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে সভার সূচনা করা হয়। সংগঠন কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা, পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ।
সভায় বক্তব্য প্রদান করেন জেলার উপদেষ্টা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুশ্রী নিয়োগী, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রীতিকণা দাস, সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুন, সহ-সাধারণ সম্পাদক শোভা সাহা প্রমূখ। পরিচালনা করেন সংগঠন সম্পাদক কানিজ ফাতেমা। কবিতা আবৃত্তি করেন জেলার সদস্য ও স্বনামধন্য আবৃত্তিকার ফাহমিদা আজাদ ও তিথি সুবর্ণা, “আগুনের পরশমণি” গান পরিবেশন করেন সদস্য দীপা রায় ও মল্লিকা দাসসহ উপস্থিত সকলে। এই গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
বক্তারা বলেন- আয়শা খানম নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের অগ্রসেনানী ছিলেন। তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান ছিলেন। বাংলাদেশের নারী মুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করে আজীবন তিনি এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। তিনি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে নকসীকাঁথার সাথে তুলনা করেছেন। এখানে প্রতিটি নারীকে বুনতে হবে। কেউ একা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সফলতা আসবে।
নারী আন্দোলনের পুরোধাব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানম ছিলেন বাংলাদেশের নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারী আন্দোলনের এক সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি ১৯৪৭ সালের ১৮ অক্টোবর নেত্রকোণা জেলার সদর উপজেলাধীন গাবরাগাতী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ সমাজ প্রগতির সকল আন্দোলনে তার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। নারী আন্দোলনকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিনত করার লক্ষ্যে তিনি তৃণমূলে শক্তিশালী নারী সংগঠন গড়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতীয় নারী আন্দোলনের সাথে বৈশ্বিক নারী আন্দোলনের যোগসূত্র সৃষ্টিতে তিনি সর্বদা ভূমিকা রেখেছেন। আয়শা খানম ২০২১ সালের ২ জানুয়ারী প্রয়াত হন।
তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ ও সাহসী নেতৃত্ব নারীর সমঅধিকারের লড়াইয়ে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি কেবল একজন নেত্রীই ছিলেন না, ছিলেন দূরদর্শী পথপ্রদর্শক। তাঁর কর্ম ও আদর্শ আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের জেলা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

