ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরন শুরু হয়েছে। র্দীঘ দিন দলের বাহিরে থাকা মনিরুল আলম সেন্টু ও রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর বহিষ্কারদেশ প্রত্যাহার করার পর থেকে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতিতে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা বিএনপির ২০০৯ সালের সম্মেলনে সভাপতি হন শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। ওই সম্মেলনে প্রতিদ্বন্ধিতা করায় মনিরুল আলম সেন্টুকে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগের কমিটিতে সেন্টু ছিলেন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় দল থেকে বহিস্কৃত হোন সেন্টু। ২০২১ সালে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগে যোগদান করে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন তিনি। ১ জানুয়ারী আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ নেতা সেন্টুকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএনপি।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানাগেছে, শহিদুল ইসলাম টিটুর রাজনৈতিক গুরু মনিরুল আলম সেন্টু। সেন্টুর হাত ধরে যুবদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন টিটু। সেই শহিদুল ইসলাম টিটু বর্তমানে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি। যদিও ৫ আগস্টের পরবর্তীতে বেশকটি অনুষ্ঠানে টিটু স্বীকার করেছেন বিএনপির রাজনীতিতে সেন্টুর মত নেতাকে প্রয়োজন। টিটু যখন থানা যুবদলের সভাপতি থেকে জেলা যুবদলের নেতৃত্বের লড়াইয়ে থাকেন তখনো সেন্টু পেছন থেকে টিটুকে সহযোগীতা করেছেন। সেই সেন্টু এবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন- শহিদুল ইসলাম টিটুকে সভাপতি ও আব্দুল বারী ভুঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করেছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াস ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন। বর্তমানে এই দুজন নেতার ফতুল্লা বিএনপির রাজনীতিতে তেমন কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। আইনজীবী হওয়ার সুবাধে কোর্টপাড়ায় বেপরোয়া আচরণ করে তাফালিংয়ে ওস্তাদ হলেও বারী ভুঁইয়ার ফতুল্লার বিএনপিতে তার সাংগঠনিক কোনো দক্ষতা যোগ্যতা কোনটাতেই নাই।নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের আশীর্বাদে সে থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হন। বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারাও নেই তাদের নেতৃত্বে। যে কারনে এই শহিদুল ইসলাম টিটু ও আব্দুল বারী ভুঁইয়ার কমিটিও বিলুপ্তির দাবি ওঠেছে নেতাকর্মীদের মাঝ থেকে।
২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে আহ্বায়ক ও নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লাকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহামুদ। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারী জাহিদ হাসান রোজেলকে আহ্বায়ক ও শহিদুল ইসলাম টিটুকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি ও সদস্য সচিব মামুন মাহামুদ।
২০২২ সালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পান গিয়াসউদ্দীন ও সদস্য সচিব পদে গোলাম ফারুক খোকন। ২০২৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী শহিদুল ইসলাম টিটুকে আহ্বায়ক ও আব্দুল বারী ভুঁইয়াকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন তারা। ওই বছরের ১৩ জুন দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে ১৬ জুন টিটুকে সভাপতি ও বারীকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেন গিয়াস ও খোকন। এই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হোন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তাকেও বহিস্কার করা হলে তিনিও বিএনপিতে ফিরেছেন।

