ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ কোলন ক্যান্সার এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ ও মধ্যবয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এই ক্যান্সারের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনেকেই ভাবেন, বয়স বা জিনগত কারণই এর প্রধান কারণ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানো বা কমানোর সবচেয়ে বড় নিয়ামক।
আপনি কী খাচ্ছেন, কতটুকু অ্যালকোহল পান করছেন, খাবারে ফাইবার ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কত—এই সবকিছু মিলেই ধীরে ধীরে অন্ত্রে এমন পরিবেশ তৈরি হয়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে বা কমাতে পারে। জিনগত প্রভাব থাকলেও দীর্ঘদিনের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস শরীরের ভেতরে রোগের ভিত্তি গড়ে তোলে অনেক আগেই।
এই কারণেই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টরা এখন চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর জোর দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন খাবারে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই দীর্ঘমেয়াদে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এতে অন্ত্রের প্রদাহ কমে, উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অন্ত্রের আস্তরণ সুরক্ষিত থাকে। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. জোসেফ সালহাবের পরামর্শ অনুযায়ী, নিচের পাঁচটি খাদ্যাভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
প্রথম নিয়ম, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা।
অ্যালকোহল অন্ত্রে অ্যাসিট্যালডিহাইড নামের একটি ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী রাসায়নিকের সংস্পর্শ বাড়ায়। এটি কোলনে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ তৈরি করে এবং অন্ত্রের আস্তরণ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকের কাছে যেটি ‘মাঝারি মাত্রার’ পানীয় অভ্যাস বলে মনে হয়, সেটিও কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
দ্বিতীয় নিয়ম, লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস কম খাওয়া।
লাল মাংসে থাকা হিম আয়রন অন্ত্রে এমন কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা নাইট্রেট, নাইট্রাইট এবং গ্রিল বা উচ্চ তাপে রান্নার ফলে তৈরি ক্ষতিকর উপাদান অন্ত্রের আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বেশি পরিমাণে লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি ধাপে ধাপে বাড়ে।
তৃতীয় নিয়ম, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া।
ডায়েটারি ফাইবার অন্ত্রের বর্জ্য দ্রুত বের করে দিতে সাহায্য করে, ফলে ক্ষতিকর কার্সিনোজেনের সংস্পর্শ কমে। ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়, যেগুলো শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে—যা কোলনকে সুরক্ষা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পূর্ণ শস্য, শাকসবজি ও সিরিয়াল ফাইবার যত বেশি, কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি তত কম।
চতুর্থ নিয়ম, ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া।
ক্যালসিয়াম কোলনে থাকা ক্ষতিকর পিত্ত অ্যাসিড ও ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট থেকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে।
পঞ্চম নিয়ম, নিয়মিত দই খাওয়া।
দইয়ে থাকা জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমায়, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং অন্ত্রের প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দই খাওয়ার সঙ্গে কিছু ধরনের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচটি পরিবর্তন নিয়মিতভাবে অনুসরণ করলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে অনেকটাই কমানো সম্ভব। এর সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং যুক্ত হলে ক্যান্সার প্রতিরোধে তা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
নীরবে বাড়ছে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি! ভুল খাদ্যাভ্যাস এড়াতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

