ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি বাসভবনে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে’ সংঘটিত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
সোমবার রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নভগোরোদ প্রদেশে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে একাধিক বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এক বিবৃতিতে জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী মোট ৯১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম হামলার আগেই সব ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়।
এই হামলার জন্য সরাসরি ইউক্রেনকে দায়ী করে ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি সংলাপে রাশিয়ার অবস্থান নতুন করে বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি সতর্ক করে জানান, এ ধরনের হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, শান্তি আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটাতে এই হামলা রাশিয়া নিজেরাই সাজিয়েছে।
হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,
“আজ ভোরে প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজেই আমাকে হামলার বিষয়টি জানিয়েছেন। এটা খুবই খারাপ ঘটনা। আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এত সংবেদনশীল সময়ে এমন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।”
পরোক্ষভাবে ইউক্রেনের দিকেই ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, “টমাহকের বিষয়টা ভুলবেন না। আমি টমাহক থামিয়েছি। আমি এটা চাইনি।”
এর আগে ইউক্রেন একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ জানালেও ট্রাম্প প্রশাসন তাতে সম্মতি দেয়নি।
হামলার পরপরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিন থেকে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হয়। পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ট্রাম্পকে হামলার বিস্তারিত তথ্য জানান।
পরে সাংবাদিকদের উশাকভ বলেন, হামলার খবর শুনে ট্রাম্প ‘হতবাক’ হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমরা ইউক্রেনকে টমাহক দিইনি।”

