ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান, নুরুল হাসান সোহানÑ রংপুর রাইডার্স যেন ‘মিনি’ জাতীয় দল; সঙ্গে ডেভিড মালান, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফের মতো বৈশ্বিক টি২০ মাতানো একঝাঁক ক্রিকেটার নিয়ে বিপিএলের অন্যতমসেরা। ফেভারিটের মতোই মিশন শুরু করল নুরুল হাসান সোহানের দল। সোমবার সিলেটে দিনের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের দাপুটে জয়ের পথে মেহেদি হাসানের চট্টগ্রাম রয়্যালসকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে রংপুর। উইকেট সবুজ ঘাসে ঢাকা। চারপাশ গুমোট।
আকাশ মেঘলা। বাতাস হীমশীতল। মওকা কন্ডিশনে সোহানকে তাই টস জিতে পেসারদের হাতে বল তুলে দিতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। ১৭.৫ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম। ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা রাইডার্সের পাকিস্তানি রিক্রুটার ফাহিম আশরাফ। মুস্তাফিজের শিকার ২ উইকেট। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনার ডেভিড মালান (৪৮ বলে ৫১) ও লিটন দাসের (৩১ বলে ৪৭) ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর রাইডার্স।
নাহিদ রানার করা প্রথম ওভারের পঞ্চম ডেলিভারিটির গতি ছিল ১৪৬.৬ কিলোমিটার। সামলাতে পারেননি এদিনই ইংল্যান্ড থেকে উড়ে এসে মাঠে নামা অ্যাডাম রসিংটন (১)। অন্য প্রান্তে নাঈম শেখ ছিলেন অন্য চেহারায়। ফাহিমের বলে বাউন্ডারি দিয়ে শুরুর পর নাহিদকেও তুলাধুনা করেন দেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে নিলামে কোটি টাকা পাওয়া ওপেনার। গতিতারকার এক ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরে দুটি চার মারেন আলিসকে, মুস্তাফিজের প্রথম বলেও মারেন বাউন্ডারি। ব্যস, সেখানেই শেষ তার অভিযান। ইনফর্ম ফিজের বেশ বাইরের বলে স্টাম্পে টেনে আনেন বাজে শট খেলে। ক্যারিয়ারে আগেও অনেকবার আউট হয়েছেন এভাবে।
সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার ফেরেন ২০ বলে ৩৯ রান করে। ৫ ওভারে ৪৫ রানের পর পথ হারানোর শুরু সেখান থেকেই। মাহমুদুল হাসান জয়কে শূন্য রানে ফেরান আলিস। গত বিপিএলের পর চোট-অস্ত্রোপচার মিলিয়ে মাঠের বাইরেই ছিলেন তিনি। প্রায় ১১ মাস পর ফিরে দারুণ বোলিং করেন এই রহস্য স্পিনার। ফাহিমের প্রথম শিকার ছিলেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। পরে মাসুদ গুরবাজকে (১৫ বলে ৯) ফেরান তিনি চোখ ধাঁধানো এক ফিরতি ক্যাচে। আগের ম্যাচে ৮০ রান করে ম্যাচসেরা হওয়া মির্জা তাহির বেগ এবার ফেরেন ২৪ বলে ২০ রানে। শেষদিকে একটি ছক্কা মারলেও ১৩ রান করতে আবু হায়দার রনি খেলেন ২১ বল। আবু হায়দার ও শরিফুল ইসলামকে এক ওভারে ফিরিয়ে চট্টগ্রামের ইনিংস শেষ করার পাশাপাশি ৫ উইকেট পূর্ণ করেন ফাহিম।
সহজ রান তাড়ায় রংপুর এগিয়ে যায় অনায়াসেই। দুই ওপেনারÑ মালান ও লিটন মিলেই দলকে নিয়ে যান জয়ের কাছে। প্রথম দুই ওভারে দুই ব্যাটসম্যান দুটি করে বাউন্ডারি হাঁকান। পেস সহায়ক কন্ডিশনেও বিস্ময়করভাবে পেসারদের সেভাবে কাজে লাগাননি চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদি। শুরুটা শরিফুল করলেও পরের চার বোলারই ছিলেন স্পিনার। এমনকি মির্জা বেগ ও জয়ের মতো অনিয়মিত স্পিনারদের বোলিংয়ে আনা হয় মুকিদুল ইসলাম, আবু হায়দারের আগে। তাতে মালান ও লিটনের কাজটা সহজ হয়ে ওঠে। মালানের ছক্কা ও লিটনের দুই ছক্কা এক চারে জয়ের এক ওভার থেকেই আসে ২৪ রান।
অবশ্য ২৭ রানে মালান বেঁচে যান কিপার রসিংটনের ব্যর্থতায়। লিটন ২০ রানে রক্ষা পান রান আউট হওয়া থেকে, ৪৬ রানে মেহেদির বলে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন নাঈম শেখ। দূরে রাখা মুকিদুলকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণে আনার পর ভাঙে এই জুটি। লিটন আউট হন ৩১ বলে ৪৭ রান করে। মুকিদুল পরের ওভারে ফেরান তাওহিদ হৃদয়কেও। দারুণ ক্যাচ নেন তানভির ইসলাম। শেষ নয় সেখানেই। ৪৮ বলে ৫১ রান করা মালান উইকেট উপহার দেন জয়কে। ওই ওভারে খুশদিল শাহর ছক্কায় শেষ হয় ম্যাচ।
বিপিএল ক্যারিয়ারে ২০ ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ৩২ ছুঁইছুঁই ফাহিম। নিখুঁত লাইন-লেন্থের সঙ্গে গতির তারতম্যে ৩.৫ ওভারে মাত্র ১৭ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট,‘আমাদের খুবই সিম্পল পরিকল্পনা ছিল- কন্ডিশনটা বুঝে, সেই অনুযায়ী বোলিং করো। আমরা ঠিক সেটাই করেছি। আমার বোলিংয়ে সবসময় সিম্পল প্ল্যানিং রাখি। আমার হাতে যা কিছু আছে, আমি সেগুলো করার চেষ্টা করি। এই তো।’ ম্যাচ শেষে বলছিলেন পাকিস্তান পেস-অলরাউন্ডার। কুয়াশায় সারাদেশের মতো সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামেও এদিন মেলেনি রোদের দেখা,‘আমি কন্ডিশনটা ঠিকমতো বুঝে নিয়েছি এবং ঠিকভাবে সেটির বাস্তবায়ন করেছি। কন্ডিশনের চাওয়া অনুযায়ী বোলিং করেছি। এতেই সাফল্য এসেছে। এভাবেই দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে চাই।’

