ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যু এদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন।
আজ ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তরিকুল সুজন এ মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলা হয়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারা দেশবাসীর মতো আমরাও আজ শোকে মুহ্যমান। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি এখন অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবেন। এরশাদ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এক অনমনীয় সাহসের প্রতীক হয়ে তিনি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের কাছে আপসহীন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে দেশে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার দৃঢ় ভূমিকা রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। ১/১১ সরকারের সময়ে তাঁর অনমনীয় ভূমিকা দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন মানুষের সাহসের উৎস। এ কারণেই তাঁকে বারবার ফ্যাসিবাদী সরকারের আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে নারী হিসেবে কুৎসিত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে কিন্তু সেসব কিছুর মোকাবিলা তিনি করেছেন স্বভাবসুলভ ঔদার্য, মহানুভবতা ও আত্মমর্যাদার সাথে। সেগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ যে ভরসা রেখেছেন তিনি সব সময় তার মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন বর্জন করে গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরিতে তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল অন্যতম নির্ধারক। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন এদেশের রাজনৈতিক অভিভাবক। তাঁর মৃত্যু আমাদের জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
আমি বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। একই সাথে শোকসন্তপ্ত পরিবার, দল ও জনগণের প্রতি পরিপূর্ণ সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।

