ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ অভাব অনটনের মাঝে প্রতিবেশীদের চাপে দিনমজুর বাবা মতিয়ার মেয়ের বিয়ে এক প্রকার ঠিকই করে ছিলেন। কিন্ত মেধাবী মীম বিয়েতে রাজী না হওয়ায় ভেঙ্গে যায় তার বিয়ে। পড়াশুনা চালিয়ে যায়। সংসারের সব কাজ করে পড়াশুনা করতে থাকে। এবার এইচ এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে গ্রামবাসী আর প্রতিবেশীদের চমকে দিয়েছে সে। মাছুমা আক্তার মীম এখন স্বপ্ন দেখে ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার।
ছোট বেলা থেকেই তাদের অভাবের সংসার। দ্ইু ভাই এক বোন সহ ৫জনের সংসার তাদের। দিনমজুর বাবার টাকায় চলে পুরো পরিবার। মাত্র স ৮শতক বাড়িভিটা ছাড়া কোন জমিজমা নেই তাদের। নানা কষ্টেও পড়াশুনার প্রতি ছোট বেলা থেকে খুবই আগ্রহ মীমের। স্কুলের পরীক্ষা গুলোতে সে প্রথম ও দ্বিতীয় হতো। তাকে সহায়তা করতো স্কুলের শিক্ষকরা। অদম্য মেধাবী হওয়ায় কোন কিছুই আটকেনি তার।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার সোনাতলি এলাকার মাছুমা আক্তার মীমের বাড়ি। পরিবারের কেউই তেমন পড়াশুনা করেনি। এমনকি এসএসসি’র গন্ডি পার হয়নি কোন সদস্য। কিনতু মীম এস এস সি ও এইচ এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। হতবাক গ্রামের মানুষ। এখন কন্যার পড়াশুনা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে দিনমজুর মতিয়ার। দিনমজুরীর আয়ে চলে সংসার কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবে জানেনা সে। মেয়ের ইচ্ছায় ভর্তি পরীক্ষার কোচিং এ অংশ গ্রহনের জন্য এক এনজিওর কাছে ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে রংপুরে ভার্সিটি কোচিং এ ভর্তি করিয়েছে। এরপর মীমের জীবনে শুরু হলো নতুন এক সংগ্রাম। রংপুরে ম্যাচ ভাড়া, যাতায়াত ও তিনবেলা খাবারের টাকা জোগাওে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্যে খেয়ে না খেয়ে চলছে মীমের সংগ্রামী জীবন।
মীমের মা আয়েশা খাতুন জানান, মেয়েটা আমার অনেক কষ্ট করেছে। স্কুলে জামা ও জুতা কিনে দিতে ঋণ করতে হয়েছিল। টাকার অভাবে তিন কিলোমিটার হেঁটেই স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করতো। ভালো মন্দ কিছু খাওয়াতে পারিনি। তারপরও সে স্কুল ও কলেজে ভালো রেজাল্ট করেছে এতে ভীষন খুশি আমি। মীমের বাবা মতিয়ার রহমান জানান, মেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়াতে আমি ভীষণ খুশি। এখন রক্ত বিক্রি করে হলেও মেয়েকে পড়াবো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ভালো রেজাল্ট করে বিসিএস দিতে চায়, আমিও তাই চাই।
মাছুমা আক্তার মীম জানায়, দশম শ্রেনীর টেস্ট পরীক্ষার পর বাবা মা ও প্রতিবেশীদের চাপে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। সবাই বলছিল মেয়ে ১৫/১৬ বয়স হয়েছে এখন বিয়ে দেয়া দরকার। কিন্ত আমি এ বিয়েতে রাজী হয়নি। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করেছিলাম। আমার মামা বিষয়টি বুঝেছিলেন। তিনি আমার পক্ষ নিয়ে বাধা দেন বিয়ের। মামার অনুরোধের কারণে আমার বিয়েটা বন্ধ হয়ে যায় সে সময়। এখন আমার পরিবারও চায় আমি উচ্চ শিক্ষিত হই। মানুষের মত মানুষ হতে পারি। আমার জীবনে আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। যত কষ্টই হউক আমি পড়াশুনা চালিয়ে যাব। এমনও দিন যাচ্ছে রংপুরে মেসে থাকাকালিন সময়ে খাবারের টাকা দিতে না পারায় রোজা রাখতে হচ্ছে। এমন কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পড়াশুনাটা কতদূর চালিয়ে যেতে পারবো, সেটাই এখন চ্যালেঞ্জের।
ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. সফিয়ার রহমান জানান, মীম গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থী। পরিবারে নাজুক অবস্থা। সরকারি বা বেসরকারিভাবে তাকে সহযোগিতা করা হলে মেয়েটি নিশ্চিন্তে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারবে। সমাজের বৃত্তবানরা কি এগিয়ে আসবেন মেধাবী মীমের পাশে। যোগাযোগ নাম্বার: ০১৩২৮৭২৯৯০৫।)
বাল্য বিয়ে রুখে মীমের জিপিএ-৫

