ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতেই তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অব্যাহতিপত্র জমা দেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। ২৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কার্যালয়ে জমা দেওয়া এই অব্যাহতিপত্রে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। একই রাতে কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়।
এর আগেই, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান মো. আসাদুজ্জামান। সে সময় তিনি বলেন, দায়িত্ব থেকে ফিরে এসে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেবেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসমুক্ত শৈলকূপা গড়াই তার মূল লক্ষ্য।
ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের সন্তান মো. আসাদুজ্জামান ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে তিনি এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং পরের বছর হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৫ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের পিতা, প্রখ্যাত আইনজীবী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের সঙ্গে জুনিয়র হিসেবে কাজ করেন।
পদত্যাগ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান

