ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ আরবি সনের সপ্তম মাস রজব। ‘রজব’ শব্দের অর্থ সম্মান ও মর্যাদা। ইসলামে চারটি পবিত্র মাসের একটি হিসেবে রজব মাস বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। রজব ও শাবান মাস মূলত পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তা বহন করে। এ মাসগুলোতে ইবাদতে মনোযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে মুমিনরা রমজানের জন্য আত্মপ্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
হাদিস শরিফে এসেছে, রজব মাস শুরু হলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করতেন। হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, এরপর রজব মাসে।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রজব মাস এলে রসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইবাদতের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।
কিছু বর্ণনায় এসেছে, রসুলুল্লাহ (সা.) রজব মাসে ১০টি, শাবান মাসে ২০টি এবং রমজান মাসে ৩০টি রোজা পালন করতেন। (দারিমি)
রজব মাসের বিশেষ আমল
রজব মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাসজুড়ে প্রিয় নবী (সা.) নিয়মিতভাবে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। পাশাপাশি প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বীজের রোজা পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ মাসে নফল নামাজ আদায়ে বিশেষ যত্নবান হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত (দোহা), আউয়াবিন, তাহিয়্যাতুল অজু এবং দুখুলুল মাসজিদ নামাজ আদায়ে মনোযোগী হওয়া উত্তম।
হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, রজব মাসের প্রথম তারিখে ১০ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের ফজিলত রয়েছে।
রজব মাসের মর্যাদাপূর্ণ রাতসমূহ
হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, চারটি রাত অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন। সেগুলো হলো—
রজব মাসের প্রথম রাত,
শাবান মাসের মধ্যরাত (শবেবরাত),
শাওয়াল মাসের প্রথম রাত (ঈদুল ফিতরের রাত),
এবং জিলহজ মাসের দশম রাত (ঈদুল আজহার রাত)।
আলেমদের মতে, রজব মাস হলো আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে রমজানের প্রস্তুতি নেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। এ মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

