ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ মোবাইল গেমিং এখন আর শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়। অনেকের কাছে এটি নেশা, আবার কারও কাছে পেশাও। পাবজি মোবাইল, কল অব ডিউটি মোবাইল, ফ্রি ফায়ার কিংবা জেনশিন ইমপ্যাক্টের মতো গ্রাফিক্স-নির্ভর গেম খেলতে হলে সাধারণ স্মার্টফোন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শক্তিশালী গেমিং স্মার্টফোন। তবে বাজারে অসংখ্য মডেল ও ফিচারের ভিড়ে সঠিক ফোন বেছে নেওয়া সহজ কাজ নয়।
জকের প্রতিবেদনে গেমিং স্মার্টফোন কেনার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই জানা দরকার, তা তুলে ধরা হলো।
প্রসেসরই মূল শক্তি
গেমিং ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রসেসর বা চিপসেট। ফোন কতটা ভালো গেম চালাতে পারবে, তা নির্ভর করে মূলত এখানেই। বর্তমানে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৩ কিংবা মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯৩০০-এর মতো হাই-এন্ড প্রসেসর গেমিংয়ের জন্য আদর্শ।
গেমিংয়ের ক্ষেত্রে জিপিইউ বা গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। অ্যাড্রেনো ৭৫০ কিংবা মালি-জি৭১৫-এর মতো শক্তিশালী জিপিইউ থাকলে সর্বোচ্চ গ্রাফিক্স সেটিংসে ল্যাগ ছাড়াই গেম খেলা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AnTuTu বেঞ্চমার্ক স্কোর ১৫ লাখের ওপরে হলে প্রসেসরকে শক্তিশালী ধরা যায়।
ডিসপ্লে না হলে গেমিং অসম্পূর্ণ
গেমিং অভিজ্ঞতার বড় অংশ নির্ভর করে ডিসপ্লের ওপর। ৬০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে দিয়ে আধুনিক গেম খেলা মানে বড় অসুবিধায় পড়া। অন্তত ১২০ হার্জ, আর আদর্শভাবে ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে থাকা জরুরি।
একই সঙ্গে টাচ স্যাম্পলিং রেটও গুরুত্বপূর্ণ। ২৪০ বা ৩৬০ হার্জ টাচ স্যাম্পলিং রেট থাকলে স্ক্রিনে টাচের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত রেসপন্স পাওয়া যায়, যা প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ে বড় সুবিধা দেয়।
ডিসপ্লে টেকনোলজি হিসেবে অ্যামোলেড সবচেয়ে উপযোগী। ফুল এইচডি+ রেজল্যুশনই যথেষ্ট, কারণ কিউএইচডি+ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাটারি ও জিপিইউয়ের ওপর চাপ ফেলে। ডিসপ্লে সাইজ কমপক্ষে ৬.৫ ইঞ্চি হওয়া ভালো।
র্যাম ও স্টোরেজে ছাড় নয়
গেমিং ফোনে র্যাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে ৮ জিবি র্যাম থাকলেও ১২ বা ১৬ জিবি হলে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়। ভারী গেম যেমন জেনশিন ইমপ্যাক্ট একাই ৪–৫ জিবি র্যাম ব্যবহার করতে পারে।
স্টোরেজের ক্ষেত্রেও আধুনিক গেমগুলো অনেক জায়গা নেয়। তাই কমপক্ষে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউএফএস ৪.০ স্টোরেজ হলে গেম লোডিং টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
কুলিং সিস্টেম না হলে পারফরম্যান্স টিকবে না
দীর্ঘ সময় গেম খেললে ফোন গরম হওয়া স্বাভাবিক। তবে ভালো কুলিং সিস্টেম না থাকলে থার্মাল থ্রটলিংয়ের কারণে পারফরম্যান্স কমে যায়। ভেপার চেম্বার, গ্রাফিন শিট কিংবা কপার কুলিং পাইপযুক্ত ফোন দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সক্ষম।
ROG ফোন বা RedMagic-এর মতো ডেডিকেটেড গেমিং ফোনে বিল্ট-ইন বা এক্সটারনাল কুলিং ফ্যানও দেখা যায়।
ব্যাটারি ও চার্জিং
গেমিং ফোনে ব্যাটারি কমপক্ষে ৫০০০ এমএএইচ হওয়া জরুরি। আদর্শ হলো ৬০০০ এমএএইচ বা তার বেশি। পাশাপাশি ৬৭ ওয়াট বা তার বেশি ফাস্ট চার্জিং থাকলে অল্প সময়ে চার্জ নেওয়া সম্ভব।
বাইপাস বা পাস-থ্রু চার্জিং ফিচার থাকলে চার্জে দিয়েই গেম খেললেও ব্যাটারি কম গরম হয় এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
অডিও, ভাইব্রেশন ও সফটওয়্যার
স্টেরিও স্পিকার, ডলবি অ্যাটমস বা DTS:X সাপোর্ট গেমিং অভিজ্ঞতা বাড়ায়। একই সঙ্গে উন্নত হ্যাপটিক ফিডব্যাক গেমের ইমারশন বাড়াতে সাহায্য করে।
সফটওয়্যার দিক থেকেও ডেডিকেটেড গেম মোড থাকা জরুরি। এতে নোটিফিকেশন বন্ধ থাকে, পারফরম্যান্স বুস্ট হয় এবং রিয়েল-টাইম এফপিএস মনিটর করা যায়।
শেষ কথা
গেমিং স্মার্টফোন নির্বাচন মানে শুধু দামি ফোন কেনা নয়। নিজের প্রয়োজন, বাজেট এবং গেমিংয়ের ধরন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাজুয়াল গেমারের জন্য মিড-রেঞ্জ ফোন যথেষ্ট হলেও, প্রো-লেভেল গেমারদের জন্য ডেডিকেটেড গেমিং ফোনে বিনিয়োগ করাই ভালো। সবশেষে মনে রাখতে হবে—ফোন যত ভালোই হোক, স্কিল আর প্র্যাকটিসের বিকল্প নেই।

