ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপির প্রার্থী দাবীদার তিন জন। তিন জনই নিজেদের প্রার্থী বলে ঘোষনা দিয়ে যাচ্ছেন তবে এখনো কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে কাউকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া সিধান্ত গণমাধ্যমে আসেনি, বা কেউ কোন বৈধ কাগজও দেখোতে পারেনি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন ঘিরে নাটকীয়তা যেন শেষই হচ্ছে না।একের পর নাটকীয়তা হচ্ছে এ আসনের মনোনয়ন নিয়ে। এ আসনে বিএনপির বৈধ প্রার্থী কে এর রহস্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।
শুরুতে এ আসনে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামানকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এরপর তিনি গত ১৬ (ডিসেম্বর)নিরাপত্তার অজুহাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরে সমর্থকদের চাপে আবার নির্বাচনে ফিরে এসেছেন। কিন্তু তিনি নির্বাচনে ফিরে আসার পর দিন (গত ২০ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ-৫ এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বলে দাবি করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি গুলশান বিএনপির কার্যালয় থেকে ফিরে এসে দলের নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি বলেন।
গত (২৪ ডিসেম্বর) বুধবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার দাবি করেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চিঠি দেখিয়েছেন। যদিও কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা এখন দেওয়া হয়নি।
গত ৩ নভেম্বর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এ সময় নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামানকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যদিও মনোনয়নপ্রত্যাশী আরও চারজন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁর বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন। তারা হলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল।
এক পর্যায়ে চারজনের মধ্যে একজন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু দলীয় প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের পক্ষে অবস্থান নেন। মাসুদুজ্জামানও ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছিলেন। তাঁর বিভিন্ন প্রচার কৌশল ব্যাপক আলোচনাও তৈরি করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি হঠাৎ নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দেন। এর কারণ হিসেবে তিনি ‘নিরাপত্তা ও পরিবারের আপত্তি’র কথা বলেন। এতে তাঁর সমর্থক নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁকে নির্বাচনে ফেরাতে তারা একের পর এক কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। এই দাবিতে ১৯ ডিসেম্বর মাসুদুজ্জামানের গার্মেন্টস ঘেরাও করেন সমর্থকরা। এ অবস্থায় তিনি নির্বাচনে ফেরার ঘোষণা দেন।
এর পরদিনই (২০ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাখাওয়াৎ হোসেন খান। তাঁর এ দাবির চার দিনের মাথায় গত (২৪ ডিসেম্বর) একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার কথা জানান সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। ‘মনোনয়ন’ পাওয়ার পরে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দরে কদমরসুল দরগা জিয়ারত করেন। তাঁকে নিয়ে বন্দর এলাকায় আনন্দ মিছিলও বের করেন তাঁর কর্মী সমর্থকরা। এ সময় আবুল কালামের পাশেই ছিলেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী শিল্পপতি আবু জাফর বাবুল।

